1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সামাজিক মাধ্যমে ঢালিউড অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর গুজব চট্টগ্রামের খুলশীতে প্রাইভেটকার চাপায় এক ব্যক্তি নিহত উত্তর-পূর্ব আলজেরিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে ১২ জনের মৃত্যু ও ৫৪ জনের আহত হওয়ার ঘটনা চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে সীমান্তে ৬ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি ফ্রান্সে অবকাশ যাপনে তাসনিয়া ফারিণ, প্যারিসের দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখছেন অভিনেত্রী নাটোরে পায়ুপথে বিশেষ কৌশলে হেরোইন বহনের সময় দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব ছাড়ছেন টিম কুক, নতুন দায়িত্বে জন টার্নাস রংপুরে একই পরিবারের চারজন হত্যার ঘটনায় আদালতে দেওয়া আসামিদের জবানবন্দি প্রকাশ সৌদি আরবের মক্কা প্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা, সর্বোচ্চ ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি হুলিয়ান আলভারেজকে দলে ভেড়াতে ১০০ মিলিয়নের প্রস্তাব বহাল রাখল বার্সেলোনা

সুদের বোঝা বাড়ছেই

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ২০ মার্চ, ২০২২
  • ১৭৩ বার দেখা হয়েছে

বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের গৃহীত ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় বাড়ছে লাফিয়ে। সরকারের বিশাল বাজেটের বড় অংশই খরচ হয় মূলত তিনটি খাতে। সেগুলো হলো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা, অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন এবং সরকারের নেওয়া ঋণের সুদ পরিশোধে।

বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধে এত বেশি অর্থ বরাদ্দ রাখার কারণে সরকারের অনেক অগ্রাধিকার খাত ভালো বরাদ্দ পাচ্ছে না। প্রতিবছর বাজেটের আকার বাড়লেও তাল মিলিয়ে রাজস্ব আয় বাড়ছে না। এ কারণে বাজেট বাস্তবায়নে বেড়ে যাচ্ছে ঋণনির্ভরতা। সংগত কারণেই বাড়ছে ঋণের সুদ ব্যয়।

২০২০-২১ অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে মোট পরিশোধিত অর্থকেও ছাপিয়ে বাজেটে ঘোষিত অনুন্নয়ন ব্যয়ের শীর্ষ অবস্থানে দাঁড়িয়েছে সুদ খাত। বর্তমানে অনুন্নয়ন ব্যয়ের ২৫ শতাংশই ব্যয় হচ্ছে এ খাতে। এর আগে ২০১২-১৩ এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে মোট পরিশোধিত অর্থের চেয়ে বেশি ছিল। কিন্তু উল্লিখিত দুই অর্থবছরে দুই খাতের ব্যয়ের ব্যবধান অতটা ছিল না। গত অর্থবছরে এ দুই খাতের ব্যয়ের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, রাজস্ব আহরণ কম হওয়ায় সরকারকে ঋণ করে ব্যয় মেটাতে হয়। ফলে ঋণের সুদের হার দিন দিন বাড়ছে। এখান থেকে বের হয়ে আসতে সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, গত পাঁচ বছরে এটি দ্রুত বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ খাত থেকে সুদ পরিশোধ বাবদ খরচ বাড়ছে। অতীতের ঋণের কারণে খরচ বাড়ছে। ব্যবস্থাপনায় সংস্কার দরকার। বাজারের চেয়ে সঞ্চয়পত্রের বেশি সুদে ঋণ নেওয়ায় এমনটি হয়েছে। এখানে সংস্কার আনতে হবে। তা না হলে বোঝা বাড়বেই। সুদ নির্ধারণ পদ্ধতিতে সংস্কার আনতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আগে বাজেটের মোট অর্থায়নের একটি বড় অংশ বাইরের উৎস থেকে রেয়াতি সুবিধাসম্পন্ন ঋণ হিসেবে পাওয়া যেত। তখন সুদ পরিশোধে ব্যয় তুলনামূলক কমিয়ে রাখা সম্ভব হতো। কিন্তু বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ ঋণ (ব্যাংক ও ব্যাংক-বহির্ভূত সঞ্চয়পত্র) বেড়ে যাওয়ায় সুদ পরিশোধে প্রতিবছর ব্যয় গড়ে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা বাড়ছে। বর্তমানে বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ বাবদ প্রতিবছর জিডিপির প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যয় হয়।

সূত্রমতে, বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয়ের ক্ষেত্রে তেমন বেশি ওঠা-নামা নেই। বিগত পাঁচ  বছরে (২০১৫-১৬ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর) বহিঃঅর্থায়নের বিপরীতে সুদ বাবদ ব্যয় ছিল সরকারি ব্যয়ের শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ এবং বহিঃঅর্থায়নের বিপরীতে অন্তর্নিহিত সুদ হার ছিল গড়ে মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ। এর বিপরীতে বিগত পাঁচ বছরে অভ্যন্তরীণ ঋণের বিপরীতে সুদ বাবদ গড় ব্যয় ছিল মোট বাজেট ব্যয়ের ১২ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং গড় অন্তর্নিহিত সুদ হার ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।

সরকারের অনুন্নয়ন ব্যয়ের খাত পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঋণের সুদ পরিশোধ কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান ছাড়াও অনুদান, ভর্তুকি, পণ্য সরবরাহ ও সেবা, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা/প্রতিষ্ঠানের অগ্রিম ঋণ অবলোপন, বিভিন্ন শেয়ার ও ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ এবং অপ্রত্যাশিত খাতেও সরকারের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

অর্থ বিভাগের হিসাব মতে, গত ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকারের মোট সুদ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা (এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ৬৬,২৯৯ কোটি টাকা ও বৈদেশিক ৪,২৮৭ কোটি টাকা)। আলোচ্য অর্থবছরের মূল বাজেটে সুদ ব্যয় খাতে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৬৩ হাজার ৮০১ কোটি টাকা (এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ৫৮,২৫৩ কোটি টাকা ও বৈদেশিক ৫,৫৪৮ কোটি টাকা)। অর্থাৎ বাজেটে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও সুদ ব্যয় বেড়েছে ৬ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা (১০.৬%)।

এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সুদ খাতে সরকারের ব্যয় হয়েছিল ৫৮ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা (এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ৫৩,৯৯৫ কোটি টাকা ও বৈদেশিক ৪,৩১৮ কোটি টাকা)। সে হিসাবে, এক বছরের ব্যবধানে সুদ পরিশোধে ব্যয় বেড়েছে ১২ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে সুদ পরিশোধে আগের অর্থবছরের তুলনায় ব্যয় বেড়েছিল যথাক্রমে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা ও প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা।

বছরওয়ারি সুদ ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত এক দশকে (২০১১-১২ থেকে ২০২০-২১) সুদ পরিশোধে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৪ গুণ। গত ২০১১-১২ অর্থবছরে সুদ পরিশোধে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা (এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ১৮,১৪৫ কোটি টাকা ও বৈদেশিক ১,৬৫১ কোটি টাকা)।

এদিকে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের সুদ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৬১১ কোটি টাকা (এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ৩০,৫৮১ কোটি টাকা ও বৈদেশিক ২,০৩০ কোটি টাকা)। এটি বাজেট বরাদ্দের ৪৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সুদ পরিশোধে মোট ৬৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে (এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ৬২ হাজার কোটি টাকা ও বৈদেশিক ৬,৫৮৯ কোটি টাকা)।

অন্যদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে গত অর্থবছরে মোট ব্যয় হয়েছে ৬৫ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে কর্মকর্তাদের বেতন বাবদ ১০ হাজার ২৬০ কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতন বাবদ ২৪ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা ও উভয় ক্ষেত্রে ভাতা বাবদ ৩০ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত পাঁচ বছর ধরে বছরওয়ারি এ খাতে ব্যয় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বাড়ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026