1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ইউটিউবে শতকোটি ভিউয়ের মাইলফলক স্পর্শ করলেন অভিনেতা জোভান রংপুরে আরএমপির বিশেষ অভিযান: এক মাসে গ্রেপ্তার ৪৪২, বিপুল মাদক উদ্ধার লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ১২, হুমকির মুখে যুদ্ধবিরতি চুক্তি এসি মিলানের কোচ মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রিকে বরখাস্ত পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঈদ উল আজহায় মুক্তি পাচ্ছে না ‘নাকফুলের কাব্য’ আবারও মিউজিক ভিডিওর মডেল হলেন সাদিয়া ইসলাম মৌ ঈদুল আজহায় সুনির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: র‍্যাব মহাপরিচালক আলবার্টা বিচ্ছিন্নতার উদ্যোগ বিপজ্জনক, ব্রেক্সিটের মতো পরিণতি হতে পারে: মার্ক কার্নি রাজশাহী মহানগরীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫ জন গ্রেফতার

বৈশ্বিক মন্দা উত্তরণে বাধা মূল্যস্ফীতি : বিশ্বব্যাংক

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২১
  • ২৩৩ বার দেখা হয়েছে

শোভন দত্ত : ২০০৭-২০০৮ সালের বৈশ্বিক মন্দার পর প্রায় এক যুগ অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক মূল্যস্ফীতি কমই ছিল। তবে সেই দিন বোধ হয় শেষ হতে চলেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চড়ছে মূল্যস্ফীতির পারদ। লাগাম টানতে পারছে না সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রও। ১৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে কানাডায়। বাংলাদেশসহ অন্য দেশগুলোতেও বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। এরই মধ্যে উদ্বেগের খবর দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

সংস্থাটি বলছে, জ্বালানির উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতিতে ঝুঁকি তৈরি করেছে। সার্বিকভাবে উচ্চ পণ্যমূল্য কিছু দেশে খাদ্য নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্যের এই অস্থিতিশীলতা বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনাভাইরাসের ধাক্কায় সৃষ্ট বৈশ্বিক মন্দা থেকে পুনরুদ্ধারকেও জটিল করে তুলেছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক নামের প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ২০২১ সাল শেষে জ্বালানির দাম গড়ে আগের বছরের চেয়ে কমপক্ষে ৮০ শতাংশ বাড়বে এবং এই উচ্চ মূল্য ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। জ্বালানির বাইরে খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের যে দাম বেড়েছে, সেটিও শিগগিরই কমবে না। ২০২২ সাল পর্যন্ত এই বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে।

সব মিলিয়ে এটি বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির চাপকে বাড়িয়ে তুলবে এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকেও বাধাগ্রস্ত করবে।
বিশ্বব্যাংকের প্রসপেক্টস গ্রুপের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও পরিচালক আয়হান কোস বলেন, ‘জ্বালানির দাম বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির জন্য নিকট ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করেছে। এটি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলবে। দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি বৈশ্বিক মন্দা থেকে পুনরুদ্ধারকেও জটিল করে তুলতে পারে।’
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে কিছু দ্রব্যমূল্য এতটাই বেড়েছে যে, সেটি মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ২০১১ সালের পর এমনটা আর দেখা যায়নি।

বিশ্বব্যাংকের প্রসপেক্টস গ্রুপের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ জন বাফেস বলেন, ‘প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লার উচ্চ দাম অন্যান্য পণ্যের উৎপাদনকে প্রভাবিত করছে। প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লার উচ্চমূল্যের কারণে সারের উৎপাদন কমেছে। অন্যদিকে বেড়েছে দাম। সারের এই উচ্চমূল্য খাদ্যশস্যেরই উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। অ্যালুমিনিয়াম ও জিংকের মতো কিছু ধাতুর উৎপাদনও কম হয়েছে জ্বালানির মূল্য বাড়ার কারণে।’

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। চলতি অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি) দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫.৬ শতাংশ।
এর অর্থ হলো, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যে পণ্য বা সেবার জন্য ১০০ টাকা খরচ করতে হতো, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে সেই পণ্য বা সেবার জন্য ১০৫ টাকা ৬০ পয়সা খরচ করতে হয়েছে।
আগের মাস আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫.৫৪ শতাংশ। জুলাইয়ে হয়েছিল ৫.৩৬ শতাংশ।
গত ২০২০-২১ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫.৬৪ শতাংশ। এর পর থেকে প্রতি মাসেই বাড়ছে মূল্যস্ফীতি।

সেপ্টেম্বরে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক বেড়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বৃহস্পতিবার মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতির হার ৫.৩ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছে সরকার। ২০২০-২১ অর্থবছরে এই লক্ষ্য ধরা ছিল ৫.৪ শতাংশ। কিন্তু অর্থবছর শেষ হয় ৫.৫৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি নিয়ে। অর্থাৎ বাজেটের লক্ষ্যের চেয়ে খানিকটা বেশি ছিল গড় মূল্যস্ফীতি।

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করার পর থেকেই বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বাড়ছে। তার প্রভাব পড়েছে ছোট-বড় সব দেশে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলেছে, খাদ্যশস্য ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে খাদ্যের মূল্য এখন ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এফএওর খাদ্যমূল্য সূচক দাঁড়িয়েছে ১৩০। অথচ গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ৯৭.৯ শতাংশ।

খাদ্যে ব্যয় বৃদ্ধি অবস্থাপন্ন মানুষের জন্য বড় সমস্যা না হলেও দরিদ্র মানুষের জন্য তা বড় সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়। কারণ আনুপাতিক হারে দরিদ্র মানুষের খাদ্যব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি।
অর্থনীতিবিদরা বলেন, কিছুটা মূল্যস্ফীতি থাকা খারাপ নয়। এর অর্থ হলো অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য আছে। মূল্যস্ফীতির সম্পর্ক নিরূপণে বহুল ব্যবহৃত ফিলিপস (নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতিবিদ এ ডব্লিউ ফিলিপস) কার্ভের সারকথা হলো, বেকারত্ব কম থাকলে এবং মজুরি ঊর্ধ্বমুখী হলে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পায়। কিন্তু মূল্যস্ফীতির হার বেশি হলে সমস্যা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তখন সুদহার বৃদ্ধি করে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ গ্রহণ কমে যায়। বিনিয়োগে প্রভাব পড়ে। ফলে এটা এক ধরনের উভয়সংকট। সূত্র : নিউজবাংলা, বাংলাট্রিবিউন।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026