একটি সংখ্যাই দুই দলের ব্যবধানটা স্পষ্ট করে দেয়—৪৫। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ১৮১তম, মালয়েশিয়া ১৩৬তম। এই ব্যবধান নিয়েই কাল ইন্দোনেশিয়ায় ফিফা আসিয়ান কাপে মুখোমুখি হবে দুই দল। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই মাঠে নামতে চান বাংলাদেশের কোচ টমাস ডুলি। তাঁর কাছে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলে হারাও সাফল্য হতে পারে।
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হচ্ছে। নভেম্বরে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে এই টুর্নামেন্টকে প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন ডুলি। তাঁর চাওয়া, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলে দল নিজেদের বর্তমান অবস্থান বুঝুক এবং সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাক।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ ডুলি বলেন, ‘আমরা এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। এটি আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা সব সময়ই আরও ভালো দলগুলোর বিপক্ষে খেলতে চেয়েছিলাম। আর ভবিষ্যতে আমাদের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট হলো সাফ। নভেম্বরে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠেয় সেই টুর্নামেন্টের জন্য এটি আমাদের জন্য একটি আদর্শ প্রস্তুতি।’
বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রত্যাশার কথাও মাথায় আছে ডুলির। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা বিবেচনায় প্রত্যাশাটা বাস্তবসম্মত রাখার পক্ষে তিনি, ‘আপনি যখন মাঠে নামবেন, তখন নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করবেন। তবে আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমি জানি বাংলাদেশে আমাদের অনেক সমর্থক রয়েছেন, যারা ভাবেন আমরা এখানে এসে সবাইকে হারিয়ে দেব। কিন্তু কাজটা অত্যন্ত কঠিন। তাই আমি সব সময়ই বলি আমাদের বাস্তবসম্মত হতে হবে। র্যাঙ্কিংয়ে মালয়েশিয়া আমাদের চেয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ পয়েন্ট এগিয়ে। এটি অনেক বড় পার্থক্য।’
এই বাস্তবতার কারণেই ম্যাচের ফল নিয়েও ডুলির ভাবনাটা কিছুটা ভিন্ন। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে জয় কঠিন হলেও লড়াই করে কম ব্যবধানে হার কিংবা ড্র করতে পারলে সেটিকে তিনি ইতিবাচক ফল হিসেবে দেখছেন।
ডুলি বলেন, ‘মালয়েশিয়া অবশ্যই কিছুটা ভালো দল এবং তাদের বিপক্ষে খেলা আমাদের জন্য কঠিন হবে। যদি আমরা ভালো ফল করতে পারি—যেমন ১-০ গোলে হারা বা ড্র করতে পারা—তাহলে সেটাই হবে আমাদের জন্য সাফল্য। মালয়েশিয়ার সঙ্গে একটি ভালো ম্যাচ খেলতে পারলে, সুযোগ তৈরি করে ড্র করতে পারলে বা একটা জয় পেলে দারুণ হবে। জয় পাওয়াটা হবে চমৎকার ব্যাপার, তবে সবারই তো স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে, তাই না?’