এশিয়া কাপ থেকে খালি হাতে ফিরে আসা। ঠিক তার পরপরই এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক হারিয়ে ফেলা। সব মিলে নারী ক্রিকেটে দিনকে দিন অবনমন। শুধু অর্জন ও প্রাপ্তির ভান্ডারই খালি হয়নি। দলগত পারফরম্যান্সের গ্রাফ একদম তলানিতে।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দ্যুতি হারিয়ে গেছে। নিগার সুলতানা জ্যোতি, দিলারা আক্তার, জোয়াইরা, সোবহানা মোস্তারিরা রান করতে ভুলে গেছেন। জয় তো সোনার হরিণ, সবাই মিলে ১০০ রান করতেই নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে।
এরকম খারাপ অবস্থা নারী ক্রিকেটে অনেককাল হয়নি। ব্যক্তিগত ও দলগত পারফরম্যান্স কেন এত বেশি খারাপ? এ বাজে সময়ের অবসান ঘটিয়ে সংকট উত্তরণে করণীয় কী? কোথায় এখন তা নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হবে; তা না। কোচ, ক্যাপ্টেন আর ওমেন উইংয়ের মধ্যে চলছে ঝগড়া-বিবাদ। ব্যর্থতার দায় কাঁধে নেবার বদলে শুরু হয়েছে অন্যকে দোষারোপ। আর কাদা ছোড়াছুড়ি।
দল ব্যর্থ হয়েছে। খারাপ খেলার ষোলকলা পূর্ণ করেছে। পাকিস্তানের মেয়েদের কাছে হেরে আগেরবারের ব্রোঞ্জ পদকও হয়েছে হাতছাড়া। ব্যর্থতার দায় মেনে সামনে এগিয়ে যাবার পথ খোঁজাই যেখানে হতে পারতো লক্ষ্য। সেখানে উল্টো দেখা যাচ্ছে দোষারোপের রাজনীতি। এশিয়ান গেমস শেষ হতেই কোচ সারোয়ার ইমরান জাপানে বসে বলে ফেলেছেন, ‘দল ভালো খেলবে কী করে? গেমস ক্রিকেটের মাঝখানে কোচ ও ক্যাপ্টেনকে সাইজ করার হলে দল আর কেমন করবে?’
নারী দলের কোচের বক্তব্য শুনে মনে হয় বিসিবি কিংবা ওমেন উইং এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের মাঝপথে বা শুরুর আগে তাকে এবং ক্যাপ্টেন জ্যোতিকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাদের ওপর অস্ফুট চাপ তৈরি করেছিল। সেই চাপ নিয়ে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের মতো বড় আসর খেলতে নেমে মেয়েরা তাদের স্বাভাবিক পারফর্ম করতে পারেনি। ব্যর্থ হয়েছে।
খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, সত্যিই কি বিসিবির পক্ষ থেকে এশিয়ান গেমস ক্রিকেট শুরুর সাথে সাথে কোচ ও ক্যাপ্টেনের ওপর কোনো চাপ তৈরি করা হয়েছিল কিনা? বিসিবির কোনো দায়িত্বশীল কর্তা কিংবা ওমেন উইং প্রধান বিসিবি পরিচালক রফিকুল ইসলাম বাবুর কেউ কি এশিয়ান গেমসের পর কোচ ও অধিনায়ককে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন কিনা?