বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কিনতে রাজি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফররত প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্র্যান্ডন নেলসনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ সময় মার্কিন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে নতুন উড়োজাহাজ কেনা সংক্রান্ত চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও নানা আলোচনা চলছে।
নিউ ইয়র্কে এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হচ্ছে কি না—মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট কোনো মন্তব্য না করলেও সম্ভাবনার কথাটি উড়িয়ে দেননি।
উপদেষ্টা বলেন, “আমরা যতটুকু তথ্য দিয়েছি, এর বাইরে আসলে তথ্য আমার কাছে নেই। তবে বাংলাদেশ বোয়িং কিনছে, এটা তো একটা প্রকাশিত তথ্য, একটা প্রকাশিত। সুতরাং এই চুক্তি হতেও পারে।
“আমরা এখন পর্যন্ত অন্তত এখানে সরকারিভাবে যা জেনেছি, তথ্য এতটুকুই আছে। এর বেশি কিছু নেই।”
গেল ১ সেপ্টেম্বর বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কিনতে রাজি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি লেখেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
চিঠিতে শিগগিরই তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ট্রাম্প।
এরপর গেল ৮ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপদেষ্টা বলেছিলেন, “যেহেতু দীর্ঘদিন থেকে আমরা বোয়িং অপারেট করি, বোয়িংয়ের যে পুরো সাপোর্টিং স্টাফ, সেটা আমাদের অনেকটা প্রস্তুত আছে, প্রশিক্ষিত আছে; সেই কারণেই আমাদের বোয়িংয়ের প্রতি কিছুটা বেশি চুজ করার প্রবণতা আছে।”
এর আগে বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে গত ৩০ এপ্রিল মার্কিন কোম্পানিটির সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
এসব উড়োজাহাজ কিনতে খরচ পড়বে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা (১ ডলারে ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা হিসাবে)।
বোয়িং থেকে বাংলাদেশ মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কিনছে। বাকি ১১টির চুক্তি প্রধানমন্ত্রী নিউ ইয়র্ক থাকতে হতে পারে।
২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এ উড়োজাহাজগুলো বিমানকে সরবরাহ করবে বোয়িং।
এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতও গেছেন। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার গুঞ্জন জোরালো হয়েছে।