বিমানবন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রাসহ তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হোটেলে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে সরকারপ্রধান পৌঁছান বলে জানিয়েছেন তার উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
তিনি বলেন, “বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনালের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানকে অভ্যর্থনা জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।”
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনালের পথ দিয়ে মোটর শোভাযাত্রাসহ নিয়ে যাওয়া হয় ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক’ হোটেলে।
যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে প্রধানমন্ত্রী এ হোটেলেই থাকবেন। হোটেলের প্রবেশ মুখে বিএনপির নেতাকর্মীরা জাতীয় পতাকা হাতে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দেন।
এর আগে বিমানবন্দরে ৮ নম্বর টার্মিনালের বাইরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা সড়কের একপাশে দাঁড়িয়ে তাদের প্রিয় নেতাকে ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ স্লোগান দেন। এসময় হাতে হাতে জাতীয় পতাকা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিকৃতি শোভা পাচ্ছিল।
সড়কের অপর পাশে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোরে টার্কিশ এয়ার লাইন্সের একটি ফ্লাইটে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। ইস্তাবুলে আড়াই ঘণ্টা যাত্রাবিরতি শেষে সন্ধ্যয় প্রধানমন্ত্রী কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছান।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীর এটিই প্রথম সফর। এর আগে গত জুন মাসে সরকারপ্রধান মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন।
কর্মসূচি: ২২ সেপ্টেম্বর সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য দেওয়া প্রাতরাশ সভায় যোগ দেবেন। এরপর তিনি অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে এবারের অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।
এদিন সন্ধ্যায় রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তারেক রহমান।
২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন।
এরপর তিনি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেন আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য রাখবেন।
সেদিন বিকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন।
বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাইড ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের তথ্য দিয়ে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বরে তিনি রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক সাইড ইভেন্টে রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন।
এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর বিকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। আগের সরকারপ্রধানদের মত তারেক রহমানও বাংলায় ভাষণ দেবেন বলে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন।
রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “বক্তব্যে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।”
২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী এবারের অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন।
সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এর মধ্যে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক চূড়ান্ত হয়েছে।
পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ওয়াল স্ট্রিট, মেটাসহ আরো কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও প্রধানমন্ত্রীর সূচিতে থাকার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব।
নিউ ইয়র্কের কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।
অপ্রতিম হত্যা: এমন নির্মম সমাজ ও সংবাদমাধ্যম কীভাবে আমাদের হলো?
মরিয়ম মরিয়া প্রমাণ করিল, কিছু প্রশ্ন ফিরে ফিরে আসে
স্মৃতি হারানো মানেই কি বয়সের স্বাভাবিক পরিণতি?
জিন্নাহপ্রীতি–৩: কারা বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ‘বাই-প্রোডাক্ট’ দেখাতে চায়?