1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ

‘গলফ’ অভিযান চালাতেন জিয়াউল, আটক ব্যক্তিদের হত্যা করে লাশ ফেলতেন নদীতে: সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান আটক ব্যক্তিদের কথিত 'গলফ' অভিযানে নিয়ে যেতেন। সেখানে তাদের গুলি করে হত্যার পর পেট কেটে সিমেন্টভর্তি বস্তা শরীরে বেঁধে নদী বা সাগরে ফেলে দেওয়া হতো বলে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন এক সাক্ষী।

শতাধিক ব্যক্তিকে গুম করে হত্যার অভিযোগে জিয়াউলের বিরুদ্ধে করা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দিতে গিয়ে র‍্যাব-৮-এর সাবেক উপ-অধিনায়ক মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানী অভিযোগ করেন, বরিশাল অঞ্চলে র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালিত কথিত 'গলফ' অভিযানের নেতৃত্ব দিতেন জিয়াউল।

সাব্বির জানিয়েছেন, ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত পাথরঘাটা ও সুন্দরবনসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়।

২০১০ সালের জানুয়ারিতে পাথরঘাটায় পরিচালিত একটি অভিযানের বর্ণনা দিতে গিয়ে ওসমানী বলেন, জিয়াউল তাকে ও তৎকালীন ব্যাটালিয়ন অধিনায়ককে চরদুয়ানীতে নিয়ে যান। সেখানে একটি ট্রলার আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। ট্রলারের মাছ সংরক্ষণের খোলে হাত বাঁধা ও মাথায় কালো টুপি পরানো এক ব্যক্তিকে রাখা হয়েছিল।

ট্রলারটি মোহনায় পৌঁছানোর পর পানির গভীরতা মাপা হয়। এরপর ওই ব্যক্তিকে খোল থেকে বের করে আনা হয় এবং গোয়েন্দা শাখার চার সদস্য তাকে ঘিরে ফেলেন।

ওসমানী সাক্ষ্য দেন, একজন ওই ব্যক্তির গলা ও পায়ের সঙ্গে সিমেন্টভর্তি দুটি বস্তা বেঁধে দেন। আরেকজন মাথা ও কানের পাশে একটি ছোট বালিশ ঠেকিয়ে পিস্তল দিয়ে তাকে গুলি করেন। তৃতীয়জন তার পেট কেটে দেন। চতুর্থ সদস্য কাটা ক্ষতের ভেতর হাত ঢুকিয়ে তা পরীক্ষা করেন। 'সব ঠিক আছে'—এমন সংকেত পাওয়ার পর তারা লাশটি পানিতে ফেলে দেন।

জিয়াউল তাকে (ওসমানী) বলেছিলেন, ওই আটক ব্যক্তি 'রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর' এবং এভাবেই তাকে 'গলফ' করতে হবে। ওসমানী বলেন, ওই প্রথমবার তিনি 'গলফ অভিযান' শব্দটি শোনেন। জিয়াউল আরও বলেছিলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় এ বিষয়ে অবগত ছিল।

২০১০ সালের মে মাসে বলেশ্বর নদীতে মুখ ঢাকা, পেট কাটা এবং শরীরে সিমেন্টের বস্তা বাঁধা একটি লাশ ভেসে ওঠে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ডিএনএ পরীক্ষায় লাশটি সাবেক বিজিবি সদস্য নজরুলের বলে শনাক্ত করা হয়।

২০১১ সালের জুনে চরদুয়ানী বাজারে ট্রলারের মাঝি আলকাছ 'গলফ' অভিযান নিয়ে বিভিন্ন কথা বলছেন—এমন অভিযোগের পর জিয়াউল ওসমানীকে আলকাছ মাঝিকে 'এলিমিনেট' করার নির্দেশ দেন বলে সাক্ষ্যতে উঠে আসে। অসুস্থতার কথা বলে ওসমানী এতে অস্বীকৃতি জানালে জিয়াউল বলেন, 'থাক, লাগবে না।'

এর প্রায় এক সপ্তাহ পর আলকাছের স্ত্রী ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের কার্যালয়ে এসে জানান, চার-পাঁচ দিন আগে জিয়াউলের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দেওয়ার কথা বলে আলকাছকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। এরপর আলকাছ নিখোঁজ হন বলে সাক্ষ্য দেন ওসমানী।

২০১১ সালের নভেম্বরে নিশানখালীতে একটি অভিযানের সময় বনদস্যু রাজুর কথিত আস্তানার কাছে নিশানখালী খালের এলাকায় মূল দলের আগেই গোয়েন্দা শাখার একটি অগ্রবর্তী দল পৌঁছে যায় বলে জানান ওসমানী।

বনের ভেতর থেকে হুইসেলের শব্দ পাওয়ার পর জিয়াউল মূল দলকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। পরে অস্ত্র ও গোলাবারুদের পাশাপাশি মাত্র দুটি লাশ পাওয়া যায়। তবে ব্যাটালিয়ন সদরদপ্তরকে জানানো হয়, ছয়টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসমানী পরে জানতে পারেন, গোয়েন্দা শাখার দলটি আরও চারটি লাশ ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। ওই ব্যক্তিদের আগেই হত্যা করে পরে অভিযানের হতাহত হিসেবে দেখানো হয়েছিল।

কটকায় চার আটক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ

২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে কটকা ফরেস্ট স্টেশনের দক্ষিণে একটি অভিযানের আগের রাতে গোয়েন্দা শাখার একটি দল চরদুয়ানী থেকে ট্রলারে করে রওনা হয়। ট্রলারের মাছ সংরক্ষণের খোলে মাথায় টুপি পরানো ও হাত বাঁধা পাঁচজনকে রাখা হয়েছিল।

ওসমানী বলেন, মোহনার কাছে পৌঁছানোর পর জিয়াউলের নির্দেশে চার আটক ব্যক্তিকে একে একে বের করে আনা হয়, গুলি করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পঞ্চম ব্যক্তিকে হাত বাঁধা অবস্থায় মাছ সংরক্ষণের খোলেই রাখা হয়।

এরপর ট্রলারটি মূল অভিযানস্থলে ফিরে যায়। সেখানে অপরাধীদের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধের পর চারটি লাশ উদ্ধারের কথা জানানো হয়। এর মধ্যে তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়, একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। ওসমানীর ধারণা, অজ্ঞাত লাশটি ছিল ট্রলারে থাকা পঞ্চম আটক ব্যক্তির।

২০১২ সালের মার্চে মরা ভোলায় আরেকটি অভিযানের সময়ও গোয়েন্দা শাখার অগ্রবর্তী দল মূল বাহিনীর আগে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে গুলির শব্দ শোনা গেলে জিয়াউল মূল দলকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন।

ওসমানী জানান, প্রায় ৩০ মিনিট পর অস্ত্র, গোলাবারুদ ও পাঁচটি লাশ 'উদ্ধার' করা হয়।

ওসমানী এসব অভিযানকে সাজানো বলে মনে করেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, গোয়েন্দা শাখার দলগুলো মূল বাহিনীর আগেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যেত, কখনো কখনো সংকেত হিসেবে হুইসেল ব্যবহার করা হতো এবং কথিত বনদস্যুদের কাছে এ ধরনের অস্ত্র না থাকার কথা থাকলেও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলির শব্দ শোনা যেত।

তিনি সাক্ষ্য দেন, পরে ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়: মূল দল যখন অভিযানে ব্যস্ত ছিল, তখন র‍্যাব সদরদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাধারণ পোশাকে, অস্ত্র বা বডি আর্মার ছাড়াই ঘটনাস্থলে চলাফেরা করছিলেন।

ওসমানী জানিয়েছেন, তার জানামতে বরিশাল অঞ্চলে জিয়াউল প্রায় ১৫ থেকে ২০টি 'গলফ' অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। তিনি বলেন, যা ঘটছিল তা তিনি মেনে নিতে পারছিলেন না। তবে বাহিনীর কমান্ড কাঠামো অনুসরণ করে আদেশ পালন করতে তিনি বাধ্য ছিলেন।

মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তা হিসেবে তিনি শুধু তার অধিনায়কের কাছে অভিযোগ জানাতে পারতেন। তবে ওই অধিনায়ক তাকে বলেছিলেন, 'জিয়াকে কে নিয়ন্ত্রণ করবে?'

র‍্যাবে ১৮ বছর দায়িত্ব পালনের পর ওসমানী পরে স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেন। ২০১৩ সালের আগস্টে তাকে নিজ বাহিনীতে ফেরত পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয় এবং ২০১৪ সালের মার্চে তিনি অবসরপূর্ব ছুটিতে যান।

শতাধিক মানুষকে গুম করে হত্যার ঘটনায় তিনটি অভিযোগে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনাল ১৪ জানুয়ারি বিচার শুরুর আদেশ দেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের আগস্টের মাঝামাঝি জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026