সারাদেশ ডেস্ক
টানা এক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর অবশেষে রাঙামাটির প্রধান পর্যটন আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ার ফলে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দর্শনার্থীরা পুনরায় এই সেতুতে যাতায়াত করতে পারছেন। এর ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটক ও স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের মাঝে।
গত শনিবার কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে রাঙামাটির বিখ্যাত ঝুলন্ত সেতুর পাটাতন প্রায় এক ফুট পর্যন্ত পানির নিচে তলিয়ে যায়। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেতুটিতে সাধারণের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করে পর্যটন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পাহাড়ি এই জনপদে ওই সময় টানা বৃষ্টির কারণে জনজীবনও কিছুটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
পরবর্তীতে হ্রদের অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের উদ্দেশ্যে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৬টি স্পিলওয়ে (জলকপাট) নির্দিষ্ট মাপে খুলে দেওয়া হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে হ্রদের পানি কমতে শুরু করে। টানা ছয় দিন পানি কমার প্রক্রিয়ার পর শুক্রবার ঝুলন্ত সেতুর পাটাতন সম্পূর্ণরূপে পানির ওপর ভেসে ওঠে এবং সেতুটি দৃশ্যমান হয়। এরপর শুক্রবার দিনব্যাপী সেতুটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও প্রয়োজনীয় ঘষামাজা করে চলাচলের উপযোগী করে তোলে কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন পরিচালিত রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, কাপ্তাই হ্রদে পানি কমে যাওয়ায় সেতুর পাটাতন থেকে সম্পূর্ণ পানি নেমে গেছে। শুক্রবার দিনভর সেতুটি নিরাপদ ও চলাচলের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে পর্যটকদের জন্য নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং দর্শনার্থীরা এখন থেকে নিয়ম মেনে ঝুলন্ত সেতুর অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
রাঙামাটি পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, ঝুলন্ত সেতু বন্ধ থাকায় বিগত এক সপ্তাহে পর্যটকদের আগমন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছিল। এতে হোটেল, মোটেল, নৌকা চালক এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েন। সেতুটি পুনরায় চালু হওয়ায় এই অঞ্চলের পর্যটন অর্থনীতিতে আবারও গতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাঙামাটিতে পর্যটকদের ঢল নামবে বলে ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশা করছেন।