বিনোদন ডেস্ক
মহারাষ্ট্রে ভেজাল ও অপরিচ্ছন্ন খাদ্যদ্রব্য বিক্রির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের চলমান কঠোর অভিযানের প্রেক্ষাপটে নিজের এক বন্ধুকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রসাত্মক ভঙ্গিতে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বলিউড অভিনেতা সালমান খান। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিনোদন জগতেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের স্টোরিতে এক বন্ধুকে উদ্দেশ্য করে সালমান খান লেখেন, আমার কফির কাপটা ভরে দাও। দাম বাড়িয়ো না, গুণমানও বজায় রেখো। পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর রেখো, না হলে এফডিএ কমিশনারকে পাঠিয়ে দেব। এই বার্তার শেষাংশে তিনি ‘ইট’স ডান সিস’ কথাটি ব্যবহার করেন। যদিও তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, তার এই মন্তব্যে এফডিএ কমিশনার তুকারাম মুণ্ডের কঠোর প্রশাসনিক ভূমিকার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। সালমানের এই পোস্টটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
এর আগে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে সালমানের মন্তব্য এবং তার ব্যবহৃত বিশেষ বাচনভঙ্গি প্রায়ই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইতিপূর্বে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন আন্দোলনের সময় তাকে উদ্দেশ্য করে সালমানের একটি বার্তা বেশ আলোচিত হয়েছিল। সে সময় তার ব্যবহৃত কিছু বিশেষ শব্দবন্ধ নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে নানা কৌতুক ও আলোচনা তৈরি হয়েছিল। এবার বন্ধুকে দেওয়া সতর্কবার্তায় সেই পুরনো প্রসঙ্গটি নতুন করে সামনে এসেছে।
এদিকে, মহারাষ্ট্রে জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এফডিএ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রাজ্যজুড়ে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানে ভেজাল রোধ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার লক্ষে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে কেবল সাধারণ খাদ্যপণ্যই নয়, বরং বিভিন্ন ক্ষতিকারক পণ্যের প্রচার ও বিপণন ব্যবস্থার ওপরও কঠোর নজরদারি চলছে।
সম্প্রতি পানমশলা ও গুটখার বিজ্ঞাপনে প্রচারণায় যুক্ত থাকার অভিযোগে বলিউড তারকা শাহরুখ খান, অজয় দেবগন এবং টাইগার শ্রফকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়েছে এফডিএ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই নোটিসের জবাব দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিনেতা অজয় দেবগন ও টাইগার শ্রফ নির্ধারিত নোটিসের জবাব দিলেও শাহরুখ খানের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর পাওয়া যায়নি।
খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মহারাষ্ট্র সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপ রাজ্যের সামগ্রিক খাদ্য ব্যবসার মান উন্নত করতে এবং ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সেলিব্রিটিদের পক্ষ থেকে এ ধরনের বিষয়ে মন্তব্য বা রসাত্মক বার্তা প্রচারের ফলে বিষয়টি সাধারণ মানুষের মাঝে আরও বেশি সচেতনতা তৈরি করছে। প্রশাসনিক এই কড়াকড়ি আগামী দিনে রাজ্যের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে বাধ্য করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।