অপরাধ ডেস্ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ও বিজয়নগর উপজেলায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার অবৈধ ভারতীয় মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে ও শাড়ি জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে পরিচালিত এসব অভিযানে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দকৃত চোরাই পণ্যগুলো আখাউড়া কাস্টমসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিজিবি-২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানান, গত বুধবার রাত ৩টার দিকে আখাউড়া উপজেলার শ্যামনগর বিওপির একটি বিশেষ টহল দল উপজেলার আনোয়ারপুর এলাকায় সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থান নেয়। এ সময় তিন ব্যক্তি মাথায় বস্তা নিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার সময় বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। বিজিবি টহল দল তাদের ধাওয়া করলে চোরাকারবারিরা বহনকারী বস্তাগুলো ফেলে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে ফেলে যাওয়া বস্তাগুলো তল্লাশি করে অত্যন্ত অভিনব কায়দায় লুক্কায়িত অবস্থায় ৮০৮ পিস মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত এই ডিসপ্লেগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৭ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, একই দিন রাত ১০টার দিকে বিজয়নগর উপজেলার মুকুন্দপুর বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী কামালমোড়া এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে কোনো দাবিদারহীন অবস্থায় ১২৫ পিস ভারতীয় শাড়ি জব্দ করা হয়। বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, জব্দকৃত এসব শাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯ লাখ টাকা। দুই অভিযানে জব্দ করা পণ্যের মোট বাজারমূল্য প্রায় ৬৬ লাখ টাকা বলে নিশ্চিত করেছে বিজিবি।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চোরাচালান রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ভারত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, প্রসাধনী ও বস্ত্র অবৈধভাবে দেশের ভেতরে প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে কড়া পাহারা বসানো হয়েছে। চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবির পক্ষ থেকে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।