সারাদেশ ডেস্ক
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মশাখালী রেলওয়ে স্টেশনে আন্তনগর যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের স্থায়ী যাত্রাবিরতির দাবিতে রেললাইন অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৭টা ২০ মিনিট থেকে ট্রেনটি মশাখালী এলাকায় আটকে থাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও আন্দোলনকারীদের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে মশাখালী স্টেশনে যমুনা এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা। এই দাবিতে গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে তারা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে তারা রেললাইনে অবস্থান নেন এবং লাল কাপড় টাঙিয়ে জামালপুর থেকে ঢাকাগামী যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনটির চলাচল থামিয়ে দেন। ট্রেনটি সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা ধরে মশাখালী এলাকায় আটকা পড়ে ছিল।
আন্দোলনরত স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনায় মশাখালী রেলওয়ে স্টেশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই এলাকার সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য আন্তনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি অত্যন্ত জরুরি। তারা জানান, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ট্রেনের স্থায়ী যাত্রাবিরতির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাদের এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, ট্রেন আটকে পড়ার খবর পেয়ে ময়মনসিংহ রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতার হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার এবং রেল যোগাযোগ পুনরায় সচল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এ ঘটনার ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে চলাচলকারী অন্যান্য ট্রেনগুলোর সময়সূচি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ট্রেনের যাত্রীরা আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। মশাখালী এলাকার এই রেলপথে যমুনা এক্সপ্রেসের স্থায়ী যাত্রাবিরতির দাবি নতুন হলেও, এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্ক রয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।