রাজনীতি ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে পরবর্তী দুই কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা ও তথ্য-প্রমাণ এনসিপির শৃঙ্খলা কমিটির কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় এনসিপির রাজনৈতিক কার্যক্রমে হামলা ও বাধার অভিযোগ তুলে সালাউদ্দিন তানভীর তাঁর ফেসবুক আইডিতে একটি মন্তব্য প্রকাশ করেন। উক্ত মন্তব্যে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও যুবদলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করে একটি আপত্তিকর বক্তব্য প্রদান করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হলে তানভীর পোস্টটি দ্রুত সরিয়ে নেন, তবে ইতোমধ্যে তাঁর বক্তব্যের ছবি ও স্ক্রিনশট সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতে এনসিপির অফিশিয়াল ফেসবুক পাতায় সালাউদ্দিন তানভীরকে পাঠানো অব্যাহতি ও কারণ দর্শানোর আদেশটি প্রকাশ্যে আনা হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রদান করা উক্ত মন্তব্যটি সংগঠনের জন্য গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। বিষয়টির স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে সকল সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। চিঠি প্রকাশের পরপরই গাজী সালাউদ্দিন তানভীর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ থেকে অপর একটি বিবৃতির মাধ্যমে নিজের অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
উল্লেখ্য, গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে রাজনৈতিক দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি পাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ইতিপূর্বে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সচিবালয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ, জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যবই মুদ্রণ কাজে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের মুখে পড়েছিলেন তিনি। ওই সময়ে দেশজুড়ে ব্যপক সমালোচনার মুখে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তাঁকে প্রথম দফায় এনসিপি থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়।
দীর্ঘ এক বছর দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে বাইরে থাকার পর এবং প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগসমূহ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল তানভীরকে পুনরায় এনসিপির কেন্দ্রীয় পদে ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসিত করা হয়েছিল। তবে পুনর্বাসনের সাড়ে তিন মাসের মাথায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর ও অসৌজন্যমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আবারও তিনি একই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হলেন।
জাতীয় রাজনীতির গতিপ্রকৃতি ও নব্য গঠিত দল হিসেবে এনসিপির মধ্যকার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। শীর্ষ পদের একজন নেতার বারবার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া এবং সাময়িক অব্যাহতির বিষয়টি এনসিপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। দলের শৃঙ্খলা কমিটির কাছে তানভীরের দেওয়া ব্যাখ্যা এবং তাঁদের চূড়ান্ত পর্যালোচনার ওপরই এখন নির্ভর করছে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।