বাংলাদেশ ডেস্ক
সারাদেশে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে ৮৭২ জন। এ নিয়ে রোগটির লক্ষণ ও সংক্রমণ নিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীদের পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সর্বশেষ হাম পরিস্থিতির এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫১ জনে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি ও চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিত হওয়া হামরোগীর সংখ্যা ১২১ জন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সারাদেশে মোট সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৬১ জনে। একই সময়সীমায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ১৮০ জন।
হাসপাতালগুলোতে ভর্তি ও চিকিৎসার চিত্রে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৬৭৪ জন শিশু ও রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা গ্রহণ শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৩৯৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও প্রাণহানি না ঘটলেও লক্ষণযুক্ত বা সন্দেহভাজন হিসেবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৭৪৪ জন শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে, উক্ত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হামের কারণে মোট ৯৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি সরকারি পরিসংখ্যানে নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ও মারাত্মক ভাইরাসবাহিত রোগ, যা মূলত শিশুদের শ্বাসতন্ত্র ও ত্বককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। প্রতি বছর উপযুক্ত সময়ে টিকাদান নিশ্চিত না করা হলে কিংবা পুষ্টিহীনতার শিকার শিশুদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সময়মতো প্রতিষেধক টিকা না দেওয়া, সচেতনতার অভাব এবং চিকিৎসায় বিলম্বের কারণে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি জোরদার করেছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় আক্রান্তের হার বেশি, সেখানে দ্রুত প্রতিষেধক দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ জনগণকে শিশুদের যেকোনো ধরনের জ্বর, ফুসকুড়ি বা হামের লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিনামূল্যে পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।