সারাদেশ ডেস্ক
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরও ৩৭১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে গত একদিনে মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। নতুন রোগীদের নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬৮১ জনে। অন্যদিকে, চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৫৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক দৈনিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সামগ্রিক ডেঙ্গু পরিস্থিতির সাম্প্রতিক তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন ৩৭১ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে সর্বাধিক ১৩৫ জন ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া বিভাগীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯১ জন, বরিশাল বিভাগে ৬৯ জন এবং খুলনা বিভাগে ৩৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১৫ হাজার ৬৮১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে আক্রান্তদের একটি বড় অংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৪৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
দেশে ডেঙ্গুর সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম ও তার পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক রূপ ধারণ করে। পূর্ববর্তী বছরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং ওই বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান মোট ৪১৩ জন। বিগত বছরের এই পরিসংখ্যান দেশের সার্বিক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ডেঙ্গু প্রতিরোধের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
চিকিৎসকদের মতে, এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে বাসা-বাড়ি ও আশপাশের আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। পাশাপাশি ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতির ওপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে এবং রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করছে।