খেলাধূলা ডেস্ক
দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) সভাপতি হিসেবে পুনরায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাবেক সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। আজ ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অনুষ্ঠিত সাফের সাধারণ কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে পরবর্তী মেয়াদের জন্য সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০৯ সাল থেকে টানা এই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।
সাধারণত সাফের সদস্য দেশগুলোর ফুটবল ফেডারেশনের প্রস্তাব ও সমর্থনের ভিত্তিতে সভাপতির পদে প্রার্থিতা নির্ধারণ করা হয়। তবে এ বছরের নির্বাচনে সালাউদ্দিন বাফুফের প্রস্তাব বা সমর্থন পাননি। পরিবর্তিত সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাফুফের বর্তমান কমিটি তাঁকে সমর্থন প্রদান থেকে বিরত থাকে। ফলশ্রুতিতে কাজী সালাউদ্দিন নেপাল ও ভুটানের ফুটবল ফেডারেশনের সমর্থন ও মনোনয়ন নিয়ে সভাপতি পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় জয়লাভ করেন।
পূর্বে সাফের গঠনতন্ত্রে সভাপতি পদের মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ রাখা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সি ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত না করার বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে গত বছর সাফের বিশেষ কংগ্রেসে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে এই সীমাবদ্ধতাগুলো প্রত্যাহার করা হয়, যা সালাউদ্দিনের পুনঃনির্বাচনের পথ সুগম করে। সালাউদ্দিন ২০০৮ সালে প্রথম বাফুফে সভাপতি নির্বাচিত হন এবং এর পরের বছর ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো সাফ সভাপতির দায়িত্ব নেন। ২০২৪ সালে বাফুফের সভাপতির পদ থেকে বিদায় নিলেও আন্তর্জাতিক এই সংস্থায় নিজের অবস্থান বজায় রাখলেন তিনি।
আজকের এই সাধারণ কংগ্রেসে অন্যান্য পদের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। বাফুফের সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ আরেফকে সাফের নতুন নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। কংগ্রেসের এই আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেলে আসন্ন সাফ টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিকভাবে ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক জটিলতার প্রভাব পড়েছে টুর্নামেন্ট আয়োজনে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ফিফা থেকে নেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় আপাতত দলটি টুর্নামেন্টের ড্র প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছে। থিম্পুর কংগ্রেসে নেপালকে তাদের প্রশাসনিক সমস্যা সমাধানের জন্য চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। উক্ত সময়সীমার মধ্যে ফিফার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা সম্ভব হলে নেপাল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। সে ক্ষেত্রে তারা স্বাগতিক বাংলাদেশের গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত হবে, অন্যথায় টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়বে।