নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রাঙ্গণে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে দুই দিনব্যাপী ‘শান্তির জন্য দর্শন’ শীর্ষক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফিলোসফিক্যাল সোসাইটি (বিপিএস) ও মোহাম্মদী কাফেলা ঐক্য পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা আধুনিক বিশ্বে যুদ্ধ, সংঘাত ও মানবিক সংকট নিরসনে দর্শন চর্চার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সম্মেলনের উদ্বোধনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনে বিজ্ঞানের সাথে দর্শনের সমন্বয় ঘটানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, টেকসই মানবিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে শুধু বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তির অগ্রগতিই যথেষ্ট নয়; বরং এর পাশাপাশি দর্শনের নৈতিক চেতনা ধারণ করা অপরিহার্য। প্রতিটি নাগরিকের মধ্য নৈতিকতা ও মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে দর্শনের পঠন-পাঠন এবং চর্চা বৃদ্ধিতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান বিশ্বে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে একটি সর্বজনীন ও মানবিক দর্শনের ভিত্তি প্রয়োজন। দর্শন মানুষকে আত্মসচেতন ও প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। একটি সুশৃঙ্খল, বৈষম্যহীন এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ নির্মাণে দর্শনের ভূমিকা অনন্য। তথ্য ও প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের এই যুগে সমাজকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে দর্শনভিত্তিক চিন্তাচর্চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে নৈতিক মূল্যবোধের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, পরিবেশগত বিপর্যয় এবং বৈশ্বিক নানা সংকট দূর করতে হলে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও গভীর দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি দর্শনের চর্চা বাড়ালেই সমাজে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। বক্তারা তাঁদের আলোচনায় উল্লেখ করেন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অ্যাকাডেমিক চর্চার বাইরে গিয়ে দৈনন্দিন জীবন ও নীতি নির্ধারণে দর্শনের প্রয়োগ বাড়ানো সম্ভব হলে সামাজিক অস্থিরতা দূর করা সহজ হবে।
বিপিএস-এর সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহ্ কাওসার মুস্তাফা আবুলউলায়ীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. নূরুজ্জামান এবং মোহাম্মদী কাফেলার প্রধান খাদেম এ আর এম কামরুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। পরবর্তীতে বিপিএস-এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম উপস্থিত সকল অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন দর্শন বিভাগের শিক্ষক মুহাম্মদ ওয়াহিদুল আলম ও জি এম বায়োজিদ ইসলাম।
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, দুই দিনব্যাপী বিস্তৃত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশ ও বিদেশের গবেষক, দর্শনবিদ ও শিক্ষকবৃন্দের অংশগ্রহণে মোট পাঁচটি বিশেষ নির্ধারিত অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এসব অধিবেশনে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংকট, শান্তি প্রতিষ্ঠা, নৈতিকতা এবং দর্শনের বিভিন্ন আধুনিক দিক নিয়ে মোট ৪৯টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে। বিজ্ঞানের দ্রুত প্রসারের যুগে দর্শনের গুরুত্ব কতটুকু এবং কীভাবে তা বৈশ্বিক সংকট নিরসনে সহায়ক হতে পারে—তা নিয়ে বিশ্লেষণী আলোচনার মাধ্যমে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন সমাপ্ত হবে।