সারাদেশ ডেস্ক
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি প্রান্তে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার সরকারি লক্ষ্যমাত্রার কথা ব্যক্ত করেন। একই অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজের উদ্বোধনসহ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে নানা সহায়তামূলক সামগ্রী ও আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়।
শুক্রবার বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসন প্রাঙ্গণে এই মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কার্ডভিত্তিক এই সহায়তা ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সরাসরি সরকারি সহায়তার আওতায় আসবেন। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিটি গ্রাম পর্যায়ে এই সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আগামী তিন বছরের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর হাতে এসব কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে।
বক্তব্যে দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার বিষয়েও আলোকপাত করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ও মানবিক শাসনের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। স্বৈরাচারী ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার যাতে পুনরাবৃত্তি ঘটতে না পারে, সে ব্যাপারে দেশবাসীকে সচেতন ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামের মেরামত ও সৌন্দর্যবর্ধনমূলক আধুনিকায়ন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মানোন্নয়নে নেওয়া নানা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপকারভোগী নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।
শিক্ষার বিস্তার ও ঝরে পড়া রোধে নেওয়া উদ্যোগের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। এছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এলাকার দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার সুবিধার্থে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতার উন্নয়ন ঘটাতে না পারলে সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকার সাধারণ মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুধীজন উক্ত আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় প্রশাসন সূত্র জানায়, তিন দিনব্যাপী এই বৃক্ষমেলায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা প্রদর্শনী ও বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা স্থানীয় পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বৃক্ষরোপণ ত্বরান্বিত করতে ভূমিকা রাখবে।