সারাদেশ ডেস্ক
নোয়াখালী সদর উপজেলার সোনাপুর এলাকার এক ব্যবসায়ীর বসতবাড়িতে গভীর রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সশস্ত্র ডাকাত দল পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও মারধর করে নগদ টাকা এবং স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। এ সময় ডাকাতদের হামলায় গৃহকর্তাসহ একই পরিবারের পাঁচজন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সোয়া তিনটার দিকে সদর উপজেলার সোনাপুরের শ্রীপুর এলাকায় মোফাজ্জল হোসেন ওরফে ফরহাদের বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ৮ থেকে ১০ জনের একটি সুসংগঠিত সশস্ত্র ডাকাত দল মুখে মুখোশ পরা অবস্থায় ওই বাড়িতে হানা দেয়। তারা ভবনের মূল ফটকের লোহার গ্রিল ও দরজার তালা কেটে অত্যন্ত সুকৌশলে ভেতরে প্রবেশ করে।
কক্ষে প্রবেশ করেই ডাকাতেরা ধারালো অস্ত্র ও দেশীয় মারমুখী মহড়া দিয়ে গৃহকর্তা মোফাজ্জল হোসেন, তাঁর দুই ছেলে এবং অন্য সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে। এ সময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ডাকাতদের এলোপাতাড়ি হামলায় পরিবারের পাঁচ সদস্য আহত হন। একপর্যায়ে ডাকাতেরা পরিবারের সব সদস্যের হাত, পা ও মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলে একটি কক্ষে আটকে রাখে।
পরবর্তী সময়ে ডাকাত দল ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে আলমারি ও ওয়ারড্রোব ভেঙে নগদ ছয় লাখ টাকা এবং প্রায় তিন ভরি ওজনের স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান নথিপত্র ও মালামাল লুট করে নেয়। মালামাল ব্যাগে ভরে ডাকাতেরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ডাকাত দল পালিয়ে যাওয়ার পর আহতদের চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন এবং তাঁদের উদ্ধার করেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে সুধারাম থানা-পুলিশ এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে এবং আলামত সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সোনাপুর ও এর আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে রাতের আঁধারে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ও সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লিয়াকত আলী সরজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লিখিত এজাহার পাওয়ার পরপরই জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হবে।