সারাদেশ ডেস্ক
হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অনুকূল প্রতিবেদন এবং জনশান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা কেটে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এর ফলে জেলা সদরে স্বাভাবিক সামাজিক ও ব্যবসা-বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পুনরায় শুরু হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালের দিকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি এম সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক আদেশে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের বিষয়টি ঘোষণা করা হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে এবং এই মুহূর্তে জনশান্তি বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সাম্প্রতিক পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে পূর্বের জারি করা নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকরভাবে তুলে নেওয়া হলো।
এর আগে মঙ্গলবার হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় একটি সংঘাতময় পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়। এর জের ধরে রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন যুবদল ও ছাত্রদল একই স্থানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করে। দু’পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান ও রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে শহরের জননিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়ে। যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা ও সহিংসতা এড়াতে গত বুধবার সকাল ১০টা থেকে পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করতে বাধ্য হয় স্থানীয় প্রশাসন।
নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন হবিগঞ্জ শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। পাশাপাশি যেকোনো ধরণের সহিংসতা মোকাবিলায় নিয়মিত টহলে নিযুক্ত ছিল তিন প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
জরুরি প্রশাসনিক বিধিনিষেধ বলবৎ থাকা সত্ত্বেও বুধবার বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ হবিগঞ্জে প্রবেশের চেষ্টা করেন। ওই বহরে সংগঠনটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারওয়ার তুষার এবং জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা মিতুসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক তৎপরতায় শহরের সীমানায় তাঁদের থামিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের পর থেকে হবিগঞ্জ পৌর শহরের গণপরিবহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং খুলতে শুরু করেছে দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে এখনো অতিরিক্ত সতর্কতা এবং টহল জোরদার রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বিক গতিবিধির ওপর নজর রাখছে যাতে নতুন করে কোনো অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি না হয়।