গজারিয়া — জেলা প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় একটি বসতবাড়িতে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সময়োচিত ও তাৎক্ষণিক তৎপরতায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে পরিবারটি। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে আগুনে একটি টিনশেড ঘরসহ ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী ভস্মীভূত হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে গজারিয়া উপজেলার করিমখা এলাকার হোগলাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মো. হাসানের বসতবাড়িতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়তে দেখলে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করেন।
সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই গজারিয়া ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি অগ্নিনির্বাপক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় আধা ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টায় রাত দেড়টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। অগ্নিকাণ্ডের ফলে বসতঘরের একটি খাট, একটি ফ্রিজ এবং অন্যান্য গৃহস্থালি আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে ঘর থেকে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বেরিয়ে আসতে পারায় কোনো প্রাণহানি বা মারাত্মক জখমের ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, রাত ১টার দিকে ৯৯৯-এর মাধ্যমে হোগলাকান্দি গ্রামে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কালবিলম্ব না করে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আগুন পার্শ্ববর্তী অন্যান্য বসতবাড়িতে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ বা প্রাথমিক সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা অন্য কোনো উৎস থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ এবং আনুমানিক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।