গাইবান্ধা — জেলা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার গোবیندগঞ্জে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালবাহী ট্রাকে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসের সজোর ধাক্কায় এক যাত্রীর পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের চাপড়িগঞ্জ এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। পা বিচ্ছিন্ন হওয়া আহত যাত্রীর নাম অনন্ত দাস (২৭)। তিনি গোবিন্দগঞ্জের চক গোবিন্দপুর এলাকার উজ্জ্বল দাসের ছেলে বলে পরিচয় শনাক্ত করা গেছে।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাপড়িগঞ্জ এলাকায় মহাসড়কের পাশে একটি মালবাহী ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল। রাত সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যবর্তী সময়ে ঢাকা অভিমুখী একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটির পেছনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রচণ্ড বেগে ধাক্কা দেয়। বাসের গতি বেশি থাকায় সংঘর্ষের পর বাসটির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সময় বাসের সামনের আসনে থাকা যাত্রী অনন্ত দাসের একটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মহাসড়কে ছিটকে পড়ে। একই সাথে বাসের ভেতরে থাকা আরও অন্তত ৯ থেকে ১০ জন যাত্রী আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানানো হয়, হাসপাতালে আনা আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনের আঘাত তুলনামূলক কম হওয়ায় তাকে উপজেলা হাসপাতালেই ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে অনন্ত দাসসহ গুরুতর আহত অপর পাঁচজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক শল্যচিকিৎসা শেষে তাদের দ্রুত বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মশিউর রহমান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সড়ক দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহন দুটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এতে করে মহাসড়কে যান চলাচল কিছুক্ষণের জন্য ব্যাহত হলেও বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাস ও ট্রাকটিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধ্যানে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মহাসড়কে বেপরোয়া গতি এবং যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে প্রতিনিয়ত এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় পরিবহণ বিশেষজ্ঞরা। তারা জানান, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে পর্যাপ্ত আলোর অভাব এবং নির্ধারিত পার্কিং জোন না থাকায় রাতের বেলা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, যা রোধে হাইওয়ে পুলিশের নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।