ময়মনসিংহ — জেলা প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় আট দিন ধরে নিখোঁজ থাকা সোহেল মিয়া (২৬) নামে এক যুবকের মাথাবিহীন মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত যুবক পেশায় একজন গাছ কাটার শ্রমিক ছিলেন। তিনি সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া এলাকার নূরুল ইসলাম ও জুলেখা বেগম দম্পতির ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই রাত আটটার দিকে নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন সোহেল মিয়া। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান না পেয়ে ২৩ জুলাই সকালে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সদরের অম্বিকাগঞ্জ কলেজ প্রাঙ্গণে অম্বিকাগঞ্জ কলেজের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী নতুন একাডেমিক ভবনের জন্য জমির সীমানা ও অবস্থান নির্ধারণ করতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা সীমানা প্রাচীরের একটি অংশ ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান এবং তীব্র দুর্গন্ধ অনুভব করেন। দুর্গন্ধের উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে তাঁরা সীমানা প্রাচীরের কাছে মানুষের একটি বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে বিচ্ছিন্ন মাথাটি নিখোঁজ সোহেলের বলে শনাক্ত করেন। এর পর রাত পৌনে আটটার দিকে মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারে ঘটনাস্থলে খননকাজ শুরু করে পুলিশ। খননকালে মাটিচাপা স্থান থেকে জোড়া গ্লাভস উদ্ধার করা হয় এবং রাত পৌনে নয়টার দিকে মাটি কেটে কয়েক ফুট গভীর থেকে সোহেলের মাথাবিহীন মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতের পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের অভিযোগ, সোহেলের ভগ্নিপতি সেলিম মিয়ার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক বিরোধ চলছিল। পূর্বে দুজন একসঙ্গে গাছ কাটার কাজ করলেও সোহেলকে তাঁর ন্যায্য পারিশ্রমিক দেওয়া হতো না এবং শারীরিক নির্যাতন করা হতো। বিরোধের একপর্যায়ে সোহেল ঢাকায় গিয়ে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। সম্প্রতি তিনি বাড়িতে এলে সেলিম আবার কাজ দেওয়ার কথা বলে ১৬ জুলাই রাতে তাঁকে ডেকে নিয়ে যান। এর পর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। স্বজনরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেলিম কোনো তথ্য দিতে পারেননি এবং মঙ্গলবার থেকে তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। নিহতের পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
ঘটনাসংশ্লেষে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পরিচয়ের সত্যতা ও চূড়ান্ত পরিচিতি নিশ্চিত করতে পিবিআইয়ের সহায়তায় আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়েছে এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। নিখোঁজ থাকা ভগ্নিপতি সেলিম মিয়াকে আইনের আওতায় আনতে এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে সার্বিক তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।