সারাদেশ ডেস্ক
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় প্রাইভেট পড়তে গিয়ে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১৪) ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কামাল উদ্দিন (৫৫) নামে সিএনজিচালিত এক অটোরিকশাচালককে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত কামাল উদ্দিন উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইলিয়াছ সওদাগরের ছেলে। এলাকায় তিনি ‘সিএনজি কামাল’ নামে পরিচিত। ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী প্রতিদিন অভিযুক্তের মেয়ের কাছে পড়াশোনা করতে যেত বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অন্যান্য দিনের মতো ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কামালের মেয়ের কাছে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে তাদের বাড়িতে যায়। অভিযোগ উঠেছে, সেই সুযোগে শিক্ষিকার বাবা কামাল উদ্দিন কিশোরীকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর ভুক্তভোগী ছাত্রী বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি বিস্তারিত জানায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে একই দিন সন্ধ্যায় খাসের হাট রাস্তার মাথা এলাকা থেকে কামাল উদ্দিনকে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা দেখতে পেয়ে আটক করে এবং প্রাথমিক উত্তম-মধ্যম দিয়ে পুলিশে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে চরজব্বর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এরপর তাকে থানায় নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একই দিন রাতে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে সুবর্ণচরের চরজব্বর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে কামাল উদ্দিনকে একক আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এজাহারভুক্ত অপরাধের ভিত্তিতেই আইনগত সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর মায়ের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। অপরাধের সত্যতা নিশ্চিত করতে চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য ও অপরাধের ধরন সংক্রান্ত প্রমাণাদি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটির স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার লক্ষে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ভুক্তভোগীর জবানবন্দি ১৮৪ ধারায় রেকর্ড করার প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।