সারাদেশ ডেস্ক
কৃষির আধুনিকীকরণ ও যান্ত্রিক বিপ্লবে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করেছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধানের ফলন বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষিত যুবসমাজকে কৃষিকাজে আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেন তিনি।
গত বুধবার রাতে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা এলাকায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) আয়োজিত যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধানের চারারোপণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার উল্লেখ করেন, দেশের ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। চিরাচরিত কৃষি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এনে ফলন বাড়াতে আধুনিক যন্ত্রপাতির বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে কৃষিখাতে প্রযুক্তি নির্ভর যান্ত্রিকীকরণের প্রক্রিয়া বেগবান করা হচ্ছে। রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের কার্যকারিতা তুলে ধরে তিনি জানান, এ ধরনের আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করে অতি অল্প সময়ে এবং সুনির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চারা রোপণ করা সম্ভব, যা উৎপাদন বাড়াতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।
দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধিতে কৃষিখাতের অবদানের কথা স্মরণ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, একসময় খাদ্য শস্য আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা থাকলেও লক্ষ্য এখন অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে চাল রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা। প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক কৃষিব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী খাদ্যশস্য উৎপাদনের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সরকারি সহায়তা ও প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার রক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি জানান, সরকার দুর্নীতি প্রতিরোধে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করেছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’সহ সব ধরণের সরকারি প্রণোদনা ও সুবিধা কেবল প্রকৃত ভূমিহীন, হতদরিদ্র এবং প্রান্তিক কৃষকদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সচ্ছল ব্যক্তি বা প্রভাবশালীদের স্বজনদের নামে অনিয়ম করে এসব কার্ড ইস্যু করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি ও এলাকার কৃষকরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চারারোপণ প্রদর্শনী শেষে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।