কক্সবাজার — জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে সরকারি খালে অবৈধভাবে নির্মিত বাঁধ ও স্লুইসগেটে বসানো জাল অপসারণে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ। জলাবদ্ধতা নিরসন এবং খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত এই উচ্ছেদ অভিযানের প্রথম দিনে ৯টি কৃত্রিম বাঁধ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে চিহ্নিত সবকটি অবৈধ অবকাঠামো অপসারণ করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাঢ়ে ১০টার দিকে মগনামা ইউনিয়নের মটকাভাঙা এলাকা থেকে এই যৌথ অভিযান শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি খালের বিভিন্ন অংশে প্রভাবশালী চক্রের নির্মিত অন্তত ৫৮টি কৃত্রিম বাঁধ এবং স্লুইসগেটে বসানো জালের কারণে দীর্ঘ দিন ধরে স্বাভাবিক পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, যার সরাসরি শিকার হন ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার পরিবারের বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা রুদ্ধ থাকায় সাম্প্রতিক বন্যায় ইউনিয়নের পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ ধারণ করে। কৃত্তিম বাঁধা ও জলাবদ্ধতার কারণে অঞ্চলের অন্তত ৩০টি মৎস্যঘেরের মাছ ভেসে যায় এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমির ফসল পুরোপুরি বিনষ্ট হয়। একই সঙ্গে ঘরবাড়ি ও পুকুর তলিয়ে গিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ দীর্ঘ দিন পানিবন্দী জীবনযাপনে বাধ্য হন। পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও ক্ষয়ক্ষতি নিরসনে গত ১৮ জুলাই বন্যা-পরবর্তী এলাকা পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারি খালে নির্মিত সকল অবৈধ উচ্ছেদ ও স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদকে যৌথ নির্দেশ প্রদান করেন।
অভিযানের বিষয়ে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী জানান, জনস্বার্থ রক্ষায় সরকারি খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে চিহ্নিত ৫৮টি অবৈধ বাঁধের মধ্যে প্রথম ধাপে ৯টি অপসারণ করা হয়েছে। খালের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
অভিযান চলাকালে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম তদারকি করেন। এ সময় মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক, স্থানীয় ইউপি সদস্যবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, গ্রাম পুলিশ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। নিখুঁত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে পেকুয়ার কৃত্রিম বন্যা ও জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।