রাজধানী ডেস্ক
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে আমূল পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। তিনি বলেন, বিগত সময়ের অব্যবস্থাপনায় শিক্ষা খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা থেকে উত্তরণে বর্তমান সরকার কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এখন শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে এই খাতকে পুনর্গঠন করাই মূল লক্ষ্য।
শনিবার সকালে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় শিক্ষা খাতের উন্নয়নে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, তিনি ‘এডুকেশন পলিসি কুমিল্লা কনসেপ্ট’ শিরোনামে একটি রূপরেখা তৈরির কাজ করছেন। এই পরিকল্পনাটি সরকারের কাছে পেশ করা হবে। তিনি বলেন, বিষয়টিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে শিগগিরই কুমিল্লায় একটি বৃহৎ শিক্ষক সমাবেশের আয়োজন করা হবে। উক্ত সমাবেশে শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হবে।
প্রাথমিক শিক্ষকদের বঞ্চনা ও অধিকারের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষকদের ওপর অতীতে বিভিন্ন সময় অবিচার হয়েছে। পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার কাজ করছে। শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতার বিষয়ে তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালকের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই বদলি প্রক্রিয়া সহজতর করতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের হাতে ন্যস্ত করা হতে পারে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, একজন শিক্ষকই পারেন শিক্ষার্থীর সুপ্ত মেধাকে বিকশিত করতে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিচর্যা যে শিক্ষার্থীর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, নিজের শিক্ষা জীবনের উদাহরণ দিয়ে তিনি তা তুলে ধরেন। তিনি প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রধান শিক্ষকদের দৃঢ় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
আদর্শ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। জহুরেন্নেসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামশেদ আহমেদ চৌধুরী সভাটি সঞ্চালনা করেন।
শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে মাঠ পর্যায়ের শিক্ষকদের মতামতের ভিত্তিতে কোনো কার্যকর নীতিমালা তৈরি করা গেলে তা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষা খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে শিক্ষকদের প্রশাসনিক ও পেশাগত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।