সারাদেশ ডেস্ক
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কনে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে এক শিশুসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বর ও কনেসহ অন্তত ১২ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জ-টেংগনামারী সড়কের শাল্টিবাড়ি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকার বাসিন্দা জিকরুল ইসলামের সাত মাস বয়সী ছেলে জীবন ইসলাম এবং একই এলাকার মোজা মিয়ার ছেলে ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী রিয়াদ ইসলাম (২০)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার কচুকাটা বন্দরপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোরছালিনের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কেশবা গ্রামের শরিফ মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বর ও কনেসহ প্রায় ১৫ জন যাত্রী একটি মাইক্রোবাসে করে নিজ এলাকায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে কিশোরগঞ্জ-টেংগনামারী সড়কের শাল্টিবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে মাইক্রোবাসটি রাস্তার পাশে গভীর খাদে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন এবং আহতদের দ্রুত কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশু জীবন ইসলাম ও রিয়াদ ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতের মধ্যে ১২ জনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ১৪ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। এর মধ্যে দুজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং বাকি ১২ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর নিহতদের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে অতিরিক্ত গতি এবং চালকের অসাবধানতার কারণে সড়ক দুর্ঘটনার হার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলা কুয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতি বা অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারানোর প্রবণতা দেখা যায়। এই দুর্ঘটনার ফলে স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালকদের সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।