নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিতে আজ সকালে সড়কপথে বরিশালের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একদিনের এই সংক্ষিপ্ত সফরে প্রধানমন্ত্রীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও সাংগঠনিক কর্মসূচি রয়েছে, যা সম্পন্ন করে আজ সন্ধ্যায়ই তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সফরে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণ অভিযান। তিনি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে নবখনন করা সরিকল-বটাজোর খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এরপর জেলা সদরের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি এলাকা এবং এর সংলগ্ন সাগরনদীর পাশেও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কর্মসূচিগুলো পরিচালিত হচ্ছে।
বৃক্ষরোপণ ছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ফ্যামিলি কার্ড প্রদান কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে কম মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার দেশজুড়ে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বরিশাল সিটি করপোরেশন ও জেলা সদর এলাকায় এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের বর্তমান অগ্রগতি পরিদর্শন এবং সরাসরি কার্ড হস্তান্তরের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে তাঁর মতবিনিময়ের কথা রয়েছে।
সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি বিকেলে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে একটি বিশেষ সাংগঠনিক সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এবং বরিশাল বিভাগ ও জেলার আওতাধীন বিভিন্ন স্তরের দলীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে বরিশাল জেলা ও মহানগর প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সফর রুট এবং অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসাহ দেখা গেছে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় সব কর্মসূচি সমাপ্ত করে সড়কপথেই তাঁর রাজধানী ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।