ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর দীর্ঘ ৬৪ বছরে কোনো দল টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়তে পারেনি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচটি জিতে সেই ঐতিহাসিক রেকর্ডের আরও কাছাকাছি পৌঁছানোই এখন লিওনেল মেসির দলের প্রধান লক্ষ্য।
এর আগে নিজেদের শেষ ম্যাচে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আলবিসেলেস্তেরা। সেই ম্যাচে দলের অধিনায়ক ও তারকা ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসি হ্যাটট্রিক করে দলের জয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই দাপুটে পারফরম্যান্সের পর দলগত আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের প্রথম গোলের ক্ষেত্রে মাঠের সতীর্থদের বোঝাপড়া এবং তৃতীয় গোলের ক্ষেত্রে নিখুঁত দলীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা তাদের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে।
আসন্ন ম্যাচকে সামনে রেখে দলের অন্যতম মধ্যমাঠের খেলোয়াড় অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার অধিনায়ক মেসির মাঠের পারফরম্যান্স ও দলের ওপর তাঁর প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন। গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ম্যাক অ্যালিস্টার জানান, মাঠে লিওনেল মেসির উপস্থিতি দলের বাকি সদস্যদের খেলার ধরন ও মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। মেসির খেলার কৌশল ও মাঠের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অনন্য, যা তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য একটি বড় শিক্ষার জায়গা। মাঠের দক্ষতার পাশাপাশি তাঁর পেশাদারিত্ব ও আচরণ দলের ভেতরকার সংহতি বজায় রাখতে বড় অবদান রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি লিওনেল মেসির ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের জন্যও বেশ কয়েকটি নতুন রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে। এটি ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে তাঁর রেকর্ড ষষ্ঠ আসরে অংশগ্রহণ। একই সঙ্গে এই জয়ের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত ১৭টি ম্যাচ জয়ের অনন্য কীর্তি স্পর্শ করেছেন, যা জার্মানির সাবেক স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ ম্যাচ জয়ের রেকর্ডের সমান। পাশাপাশি, এই হ্যাটট্রিকের কল্যাণে বিশ্বকাপের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নিজের নাম স্থান করে নিয়েছেন এই ফুটবলার। ম্যাচ শেষ হওয়ার ১০ মিনিট আগে তাকে যখন মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শক সমাজ করতালি ও দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে তাঁর এই অর্জনকে উদযাপিত করে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্য কেবল নকআউট পর্বে টিকে থাকার লড়াই নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার একটি বড় পরীক্ষা। অস্ট্রিয়া দলের রক্ষণভাগ এবং কৌশলগত অবস্থান আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে আর্জেন্টিনা দলের বর্তমান ফর্ম, খেলোয়াড়দের মধ্যকার চমৎকার বোঝাপড়া এবং লিওনেল মেসির রেকর্ড সৃষ্টিকারী পারফরম্যান্স দলটিকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখছে। আগামী ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে উভয় দলই তাদের চূড়ান্ত কৌশল নির্ধারণ করছে, যা ফুটবল বিশ্বকে আরেকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ উপহার দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।