বাংলাদেশ ডেস্ক
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে ছয় দিনের সরকারি সফরে দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম বিদেশ সফর। মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি দ্বিপক্ষীয় সফরে চীন গমন করবেন। রবিবার (২১ জুন) দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।
কূটনৈতিক সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই ত্রিদেশীয় সংযোগ ও উচ্চপর্যায়ের সফরটি ঢাকা, কুয়ালালামপুর ও বেইজিংয়ের মধ্যকার অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ছয় দিনের এই দীর্ঘ সফরে ২১ থেকে ২২ জুন মালয়েশিয়া এবং ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চীনে অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুন তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। সরকারপ্রধানের এই প্রথম বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে বন্ধুভাবাপন্ন দেশ দুটির সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সফরের প্রথম অংশে মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এই বৈঠকে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের সম্প্রসারণ, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, বাংলাদেশে মালয়েশীয় বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আসিয়ানভুক্ত দেশের ভূমিকা জোরদার করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই বৈঠক বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৩ জুন চীনের বেইজিংয়ে পৌঁছাবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেইজিং সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা (অ্যাকশন প্ল্যান) এবং একটি প্রটোকল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় মূলত দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও ডিজিটাল অর্থনীতির মতো খাতগুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
বাংলাদেশি কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই দুই দেশ সফর বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি ও অর্থনৈতিক কূটনীতির জন্য একটি বড় পরীক্ষা ও সুযোগ। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের ওপর বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ অনেকাংশে নির্ভরশীল, অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী ও আমদানির বড় উৎস। ফলে এই সফরের মাধ্যমে সম্পাদিত চুক্তি ও আলোচনাগুলো আগামী দিনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিশ্চিতকরণে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।