জাতীয় সংসদ ডেস্ক
জাতীয় সংসদে স্পিকারের আসনের প্রতি ‘ঝুঁকিয়া’ বা মাথা নত করে সম্মান জানানোর বাধ্যবাধকতা কার্যপ্রণালি বিধিতে আর কার্যকর নেই বলে রুলিং দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে স্পিকার এই সিদ্ধান্ত জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৬ সালে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি সংশোধনের মাধ্যমে এই বাধ্যবাধকতা বিলুপ্ত করা হয়েছে। এখন থেকে সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে পারবেন।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান এবং ১৭ জুন নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক পয়েন্ট অব অর্ডারে স্পিকারের প্রতি ‘ঝুঁকিয়া’ সম্মান জানানোর প্রচলিত ঔপনিবেশিক ও ঐতিহাসিক রীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সংসদ সদস্যরা এই প্রথার যৌক্তিকতা এবং বিধিসম্মত ভিত্তি জানতে চাইলে স্পিকার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় কার্যপ্রণালি বিধির চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে এই রুলিং দেওয়া হলো।
রুলিংয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৭(১) উপবিধি অনুযায়ী, সংসদের বৈঠক চলাকালে কোনো সদস্য কক্ষে প্রবেশ, প্রস্থান কিংবা আসন গ্রহণ ও ত্যাগের সময় স্পিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার নিয়ম রয়েছে। তবে অষ্টম জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ২০০৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর এই বিধি সংশোধনের একটি প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করে। পরবর্তী সময়ে ২৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সংসদে প্রতিবেদনটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে ২৬৭(১) বিধি থেকে ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
সংসদীয় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা এই ঔপনিবেশিক রীতির আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তি সংসদীয় সংস্কৃতির আধুনিকায়ন ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিধি সংশোধন হওয়া সত্ত্বেও চর্চাগত ধারাবাহিকতার কারণে অনেক সদস্য বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। স্পিকারের এই রুলিংয়ের ফলে দীর্ঘদিনের এক প্রশাসনিক ও মনস্তাত্ত্বিক অস্পষ্টতার অবসান ঘটল। এর ফলে সংসদ সদস্যরা এখন থেকে কোনো নির্দিষ্ট শারীরিক ভঙ্গির বাধ্যবাধকতা ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যে নিজ নিজ ধর্মীয় মূল্যবোধ মেনে সংসদীয় শিষ্টাচার বজায় রাখতে পারবেন, যা সংসদের কার্যপরিবেশকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করবে।