1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০২:২৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে জোর দিচ্ছে বিডা সারাদেশে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল ভারতের মণিপুর রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান বাংলাদেশের কানসাস সিটির মহাসড়কে উপর্যুপরি বন্দুক হামলা, নিহত ১, সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ জেডি ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পেছাল যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি লঙ্ঘনে সমমানের জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের শান্তি চুক্তির বিরোধিতাকারীদের প্রতি মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে বোম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ প্রীতি জিনতা, মামলা দায়েরের অনুমতি লাভ চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমোদন এসএসএফকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, স্পেনের বিনিয়োগ প্রস্তাব

সারাদেশে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল ভারতের মণিপুর

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

সারাদেশ ডেস্ক

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ৯টা ২৯ মিনিটে এই ভূকম্পন সংঘটিত হয়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। রাতের এই আকস্মিক কম্পনে সাধারণ মানুষের মধ্যে সাময়িক সময়ের জন্য এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে মৃদু মাত্রার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে দেশের কোথাও কোনো বড় ধরনের প্রাণহানি কিংবা ভৌগোলিক ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ভূকম্পনটির কেন্দ্রস্থল বা উৎপত্তিস্থল ছিল পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মণিপুর অঞ্চলে। ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করলে এই উৎপত্তিস্থলটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৩৬১ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত। কেন্দ্রস্থলটি ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হওয়ায় বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলো, বিশেষ করে সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট কম্পন অনুভূত হয়েছে। বহুতল ভবনে অবস্থানরত নাগরিকরা এই মৃদু ঝাঁকুনি বেশি টের পান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও এর আশেপাশের অঞ্চলগুলো ভৌগোলিকভাবে দীর্ঘকাল ধরেই ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশের ভূগর্ভস্থ ভূ-তাত্ত্বিক গঠন বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশ মূলত ভারতীয়, ইউরেশীয় এবং বার্মিজ—এই তিনটি প্রধান টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করছে। বিশেষ করে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত ঘেঁষে থাকা ডাউকি ফল্ট এবং ভারত ও মিয়ানমারের ভেতরের সাবডাকশন জোনগুলো দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ ভূগর্ভস্থ শক্তি সঞ্চয় করে চলেছে। ফলে এসব ফল্ট লাইনে প্রায়শই মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের ভূকম্পন সৃষ্টি হচ্ছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশে।

উদ্বেগের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ টেকটনিক প্লেটগুলোতে মৃদু কম্পনের প্রবণতা লক্ষ্যণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকালের এই ঘটনার ঠিক এক সপ্তাহ আগে, অর্থাৎ গত ১১ জুন রাত ৯টা ৪০ মিনিটেও সারা বাংলাদেশে আরেকটি অনুরূপ মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ১১ জুনের ভূকম্পনটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫ এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসামের শিলচর সংলগ্ন অঞ্চলে, যা বাংলাদেশের সিলেট সীমান্তের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এই ধরণের ধারাবাহিক মৃদু কম্পন বড় কোনো ভূ-তাত্ত্বিক পরিবর্তনের পূর্বলক্ষণ কি না, তা নিয়ে ভূতত্ত্ববিদদের মধ্যে নানামুখী বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ চলছে।

ভূতত্ত্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, ছোট ছোট ভূমিকম্পের মাধ্যমে ভূগর্ভে সঞ্চিত শক্তি ধাপে ধাপে বের হয়ে যাওয়া একদিক থেকে ইতিবাচক, কারণ এটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কাকে কিছুটা হ্রাস করে। তবে অপর একটি বড় অংশ মনে করেন, ঘন ঘন মৃদু কম্পন মূলত এই অঞ্চলের প্রধান ফল্ট লাইনগুলো সচল ও সক্রিয় থাকার ইঙ্গিত দেয়, যা ভবিষ্যতে যেকোনো সময় একটি শক্তিশালী ও বড় মাত্রার ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে।

বিশেষ করে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ প্রধান প্রধান শহরগুলোতে যেভাবে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে, তাতে মাঝারি থেকে ভারী মাত্রার ভূমিকম্প হলে বড় ধরনের মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা এই ধরণের নিয়মিত কম্পনকে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে গ্রহণ করে জাতীয় পর্যায়ে দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। ভবন নির্মাণে যথাযথ বিল্ডিং কোড বা নির্মাণ বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং জনসাধারণের মধ্যে নিয়মিত সচেতনতামূলক মহড়া পরিচালনার ওপর এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026