সারাদেশ ডেস্ক
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় সিফু আহমেদ আসিফ (১৯) নামের এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে রায়গঞ্জ-পাঙ্গাসী সড়কের রায়গঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আসিফ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে। তিনি রায়গঞ্জের সরকারি বেগম নুরুন নাহার কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাতে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা শেষে ভোররাতে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন আসিফ। রায়গঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সম্মুখভাগে পৌঁছালে তিনি মোটরসাইকেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারান এবং যানটি সড়ক সংলগ্ন দেয়ালের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে তিনি মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
আহত আসিফকে তাৎক্ষণিকভাবে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে এবং উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। বগুড়া নিয়ে যাওয়ার পথেই আসিফের মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং মাথায় মারাত্মক আঘাতের কারণেই হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই তার মৃত্যু হয়েছে।
রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসানুজ্জামান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক আলামত পর্যালোচনায় ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি বা কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি দেয়ালে আঘাত হানে।
ওসি আরও জানান, আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর নিহত আসিফের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ দাফনের আবেদনের প্রেক্ষিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
সড়ক দুর্ঘটনা ও তরুণদের বাইক চালনা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে গভীর রাতে বা উৎসব-উন্মাদনার সময়ে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আসিফের এই অকাল মৃত্যুতে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি বেগম নুরুন নাহার কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সহপাঠী এবং নিজ গ্রাম নিশ্চিন্তপুরে গভীর শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।