1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০১:৪৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে জোর দিচ্ছে বিডা সারাদেশে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল ভারতের মণিপুর রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান বাংলাদেশের কানসাস সিটির মহাসড়কে উপর্যুপরি বন্দুক হামলা, নিহত ১, সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ জেডি ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পেছাল যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি লঙ্ঘনে সমমানের জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের শান্তি চুক্তির বিরোধিতাকারীদের প্রতি মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে বোম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ প্রীতি জিনতা, মামলা দায়েরের অনুমতি লাভ চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমোদন এসএসএফকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, স্পেনের বিনিয়োগ প্রস্তাব

চট্টগ্রামে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা ও মারধর: এসআইসহ ৩ পুলিশ প্রত্যাহার, মামলা দায়ের

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
  • ২২ বার দেখা হয়েছে

চট্টগ্রাম — জেলা প্রতিনিধি

জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য নাঈম হাসানকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর এবং থানায় নিয়ে হেনস্তার অভিযোগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) খুলশী থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও দুই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় শনিবার সকালে ভুক্তভোগী ক্রিকেটারের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং পুলিশের সোর্স সোহেলসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের মাধ্যমে একজন জাতীয় স্তরের ক্রীড়াবিদ এভাবে হেনস্তার শিকার হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্রিকেট মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিবরণী থেকে জানা গেছে, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষ করে শুক্রবার রাতে বিমানযোগে চট্টগ্রামে পৌঁছান জাতীয় দলের স্পিনার নাঈম হাসান। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে নগরের বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বহনকারী গাড়িটির গতি রোধ করেন। গাড়ি থামানোর পর পুলিশ সদস্যরা তাকে জোরপূর্বক রাস্তায় নামিয়ে আনেন। নাঈম হাসান নিজের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করার পরও এসআই শফিকুল ইসলাম লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করেন এবং তার সাথে থাকা সাদা পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তি পাইপ দিয়ে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ক্রিকেটার নিজেকে জাতীয় দলের খেলোয়াড় হিসেবে বারবার পরিচয় দিলেও কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তা আমলে নেননি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় লালখান বাজার মোড়ে শতাধিক মানুষ জড়ো হয়ে ওই যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করলেও পুলিশ সদস্যরা মারধর অব্যাহত রাখেন এবং তাকে একজন পেশাদার অপরাধী হিসেবে অভিহিত করে চুপ থাকার নির্দেশ দেন। মারধরের এক পর্যায়ে তাকে অন্য একটি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং পরবর্তীতে খুলশী থানায় নিয়ে গিয়েও দীর্ঘক্ষণ মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। থানায় কর্তব্যরত অবস্থায় নিজের মোবাইল ফোন ফেরত পাওয়ার পর নাঈম হাসান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবালকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরবর্তী সময়ে বিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিএমপির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, মূলত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে অবৈধ সোনার চালান পাচার হচ্ছে—এমন একটি গোপন ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদস্যরা সেখানে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। তবে এই ধরনের সংবেদনশীল অভিযান পরিচালনার পূর্বে আইনানুযায়ী যে ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করা হয়েছিল কি না এবং প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা কতটুকু ছিল, তা খতিয়ে দেখার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযানের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের দৃশ্যমান কিছু ভুলত্রুটি ও পেশাদারিত্বের ঘাটতি পরিলক্ষিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশের অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার রাতে ছুটিতে থাকা খুলশী থানার অপর এক কর্মকর্তা এসআই মনিরুল ইসলামের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এসআই শফিকুল ইসলাম ওই বিশেষ অভিযানটি পরিচালনা করেছিলেন। সোনা চোরাচালানের এই ভুল তথ্যের কারণে শেষ পর্যন্ত একজন জাতীয় ক্রিকেটারকে চরম হেনস্তার শিকার হতে হলো। এদিকে ক্রিকেটার নাঈম হাসানের বাবা মাহবুবুল আলম এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ছেলের আটকের খবর পেয়ে গভীর রাতে থানায় ছুটে গেলে সেখানে কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার তার সাথেও চরম অসৌজন্যমূলক ও আপত্তিকর আচরণ করেন।

ঘটনার পর গভীর রাত থেকেই খুলশী থানা প্রাঙ্গণে নাঈম হাসানের স্বজন, স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও বিপুলসংখ্যক ক্রিকেটপ্রেমী ভিড় জমান। তারা অপরাধী পুলিশ সদস্যদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার ও চাকরিচ্যুতির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই বিশেষ অভিযানের বিষয়ে তাকে পূর্ব থেকে কোনো কিছু অবহিত করেননি। থানায় নিয়ে আসার পর যুবকের পরিচয় পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া গেলে পুলিশের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় ক্রীড়ামোদী জনগণ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং লিখিত আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত থানা চত্বর ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান। বর্তমানে লালখান বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং বিভাগীয় তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026