দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে একটি মহল সক্রিয় প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশের সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলা বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। নবগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন বা নতুন সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হলো।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান সময়ে একটি সুনির্দিষ্ট মহল দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার জন্য বিভিন্ন ধরনের অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই মহলটি যেন তাদের উদ্দেশ্য সফল করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে যখন দেশ পুনর্গঠনের কাজ নতুন উদ্যমে শুরু হয়েছে, তখন কোনো ধরনের বিভ্রান্তিতে না পড়ার জন্য তিনি সর্বস্তরের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সরকারের চলমান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। দলীয় ও রাষ্ট্রীয় রূপরেখার আলোকে ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে বেশ কিছু কল্যাণমুখী কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বক্তব্যে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সুরক্ষায় এসব কার্যক্রমের বাস্তবায়ন ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং অন্যান্য প্রতিশ্রুতিগুলোও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার জন্য প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রুহিয়াকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে বাস্তবায়নের দীর্ঘদিনের দাবি স্থানীয় জনগণের। এই গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি সচল রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহল ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখন একযোগে কাজ করছে।