বিশেষ প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের অন্যতম বৃহৎ ট্রেডিং ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘মিতসুই অ্যান্ড কোং’-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। আজ বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ অংশীদারিত্ব এবং ব্যবসা পরিচালন প্রক্রিয়া সহজীকরণসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে মিতসুই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাকাতো সাতো। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন এশিয়া প্যাসিফিক বিজনেস ইউনিটের চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার তাকানোবু মুরায়ামা, মিতসুই বাংলাদেশের কান্ট্রি চেয়ারপারসন কেনইচিরো কাওয়ামোতো এবং ঢাকা শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, মিতসুই অ্যান্ড কোং বিশ্বজুড়ে লজিস্টিকস, বড় অবকাঠামো নির্মাণ, খনিজ ধাতু, নবায়নযোগ্য ও প্রথাগত জ্বালানি এবং খাদ্য বাণিজ্যসহ বহুমুখী খাতে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশে জাপানি এই প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের পরিধি বাড়াতে বিশেষ করে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি, জ্বালানি খাতের রূপান্তর এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে গভীর আলোচনা হয়।
আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করে বলেন, বর্তমান সরকার দেশে একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার নীতিগত সহায়তা সংস্কার করছে এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য এটি একটি উপযুক্ত সময় উল্লেখ করে তিনি মিতসুইকে দেশের ক্রমবর্ধমান অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।
বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা ও অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত করতে সরকার কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সেবা ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ (OSS)-এর আওতায় একক প্ল্যাটফর্মে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অতি দ্রুত এবং কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই কোম্পানির নিবন্ধন, লাইসেন্স, কর কাঠামো এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রসহ যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারবেন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের মিতসুই অ্যান্ড কোং-এর মতো বৈশ্বিক জায়ান্টের বিনিয়োগ বাংলাদেশে এলে তা অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে। বিশেষ করে লজিস্টিকস ও জ্বালানি খাতের মতো চালিকাশক্তিগুলোতে জাপানি বিনিয়োগ বাংলাদেশের শিল্পায়নকে আরও বেগবান করবে। ওয়ান-স্টপ সার্ভিস কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে দেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বৈঠক শেষে মিতসুই-এর প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের বর্তমান বিনিয়োগ নীতির প্রশংসা করেন এবং আগামী দিনগুলোতে কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে বড় বিনিয়োগের বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। উভয় পক্ষই এই আলোচনাকে ফলপ্রসূ অভিহিত করে আগামীতে কার্যনির্বাহী পর্যায়ে যোগাযোগ বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।