নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান মন্ত্রিত্বে বহাল থাকবেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বুধবার (৩ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করতে হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে সেখানে সার্বক্ষণিক সময় দিতে হবে। তবে এই দায়িত্ব পালনের অর্থ এই নয় যে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না। বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পারস্পরিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
এর আগে গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৯০টি ভোটের মধ্যে ৯৯ ভোট পেয়ে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেজ কাকাউরিসকে তিনি পরাজিত করেন। দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর পর বাংলাদেশ জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী পদে নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করল। এর আগে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের এই শীর্ষ পদটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও কূটনৈতিক প্রভাব বহুলাংশে বৃদ্ধি করবে। তবে একই সাথে এই পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নিউইয়র্কে দীর্ঘ সময় অবস্থানের প্রয়োজন হয়, যার ফলে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিয়মিত উপস্থিতি ব্যাহত হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটেই তার মন্ত্রিত্বে থাকা বা না থাকার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বিদেশ সফর সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারিভাবে চূড়ান্ত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো অনানুষ্ঠানিক তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ এসেছে এবং যথাসময়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
অপর এক প্রসঙ্গে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন প্রতিমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন যে, বাংলাদেশে সংঘটিত একটি সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা জড়িত তা তিনি জানেন। এ প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ভারতের একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক বক্তব্যকে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আমলে নিচ্ছে না। তবে হাদি হত্যাকাণ্ড নামক ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ভারতে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে ভারত সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আইনি প্রক্রিয়া ও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।