বিশেষ প্রতিবেদক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এই অভিনন্দন জানান। এর আগে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাধারণ পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ৯৯ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন। এই গৌরবময় অর্জন বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবদান, কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক বিশ্বস্ততার এক অনন্য প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি অত্যন্ত গৌরব ও দক্ষতার সাথে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। একই সাথে তিনি বর্তমান বিশ্বের বহুপাক্ষিক সংকট নিরসন, যৌথ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, সংলাপ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের ভোটে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতি নির্বাচিত হতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট পেয়ে ড. খলিলুর রহমান বিশ্বমঞ্চের এই মর্যাদাপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী ফোরামের শীর্ষ পদে আসীন হলেন। আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ৮১তম অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে, যেখানে তিনি আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয়গুলোতে নেতৃত্ব দেবেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদটি বৈশ্বিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী। বাংলাদেশের কোনো শীর্ষ কূটনীতিকের এই পদে নির্বাচিত হওয়া দেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি বড় ধরনের সাফল্য। জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকট এবং চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মতো সমসাময়িক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এই নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান ও ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় করবে। একই সাথে, জাতিসংঘের নীতি নির্ধারণে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকার আদায়ের পক্ষে বাংলাদেশের জোরালো ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হবে।