নিজস্ব প্রতিবেদক
সাতক্ষীরা সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সম্ভাব্য পুশইন (জোরপূর্বক পুশব্যাক) প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চামড়া পাচার রোধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সকল সদস্যের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
সংশ্লিষ্ট বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই সীমান্ত পথ দিয়ে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান বন্ধে সাতক্ষীরাস্থ বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্ত বরাবর নিরবিচ্ছিন্ন পাহারা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখার স্বার্থে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরসহ আওতাধীন সকল সীমান্ত পর্যবেক্ষণ চৌকিতে (বিওপি) কর্মরত বিজিবি সদস্যদের ঈদের ছুটি বাতিল করে সার্বক্ষণিক দায়িত্বে নিয়োজিত রাখা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে অনুপ্রবেশবিরোধী বিশেষ অভিযানের পর সেখানকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাংলাভাষী বেশ কিছু নাগরিককে আটক করেছে। আটককৃতদের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী হোল্ডিং সেন্টারে রেখে পরবর্তীতে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এদের বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে বিএসএফের মাধ্যমে যেকোনো সময় সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে পুশইনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তের ওপারে ভারতের হাকিমপুর এলাকায় ইতোমধ্যে বিপুল সংখ্যক বাংলাভাষী নারী, পুরুষ ও শিশুকে জড়ো করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই সম্ভাব্য পুশইন প্রতিরোধেই মূলত বিজিবি এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
সীমান্ত সুরক্ষায় বিশেষ করে রাতের বেলায় শক্তিশালী টর্চলাইট ও অত্যাধুনিক নজরদারি সরঞ্জাম ব্যবহার করে বিজিবি সদস্যরা তাদের নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত বিশেষ টহল পরিচালনা করছেন। অনুপ্রবেশ ও পুশইনের পাশাপাশি আসন্ন কোরবানি পশুর চামড়া যাতে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পাচার হতে না পারে, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি বলয় তৈরি করা হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয় জনসাধারণকে সতর্ক করতে এবং নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়তার আহ্বান জানিয়ে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে দিনভর সচেতনতামূলক মাইকিং করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্ত জনপদের বাসিন্দাদের সাথে সমন্বয় করে অবৈধ পারাপার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরাস্থ বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান জানান, সাতক্ষীরার সমগ্র সীমান্তজুড়ে বিজিবির জনবল বৃদ্ধি করে টহল কার্যক্রম বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি বিওপির আওতাধীন সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিজিবি সদস্যরা রাতভর সতর্ক পাহারা দিচ্ছেন। প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর যেকোনো ধরনের একতরফা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ এবং যেকোনো অপতৎপরতা নস্যাৎ করতে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা সর্বদা সজাগ ও প্রস্তুত রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার স্বার্থেই ব্যাটালিয়নের সকল সদস্যের ছুটি বাতিল করে হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।