1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
১৭ মাস পর ভারত থেকে ৩৬ বাংলাদেশি যুবকের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন ইরাকে মিসাইল হামলায় নিহত বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা মোহাম্মদ শ্রাবণের মরদেহ দেশে প্রত্যাবর্তন আশুগঞ্জে পশুর চামড়া রাখা নিয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০ পাকিস্তানের ১১ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট গ্রেপ্তার, বাকস্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ ইউক্রেনে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের নির্ধারিত সময়ের আগেই বর্জ্য অপসারণ করে পরিচ্ছন্ন রাজশাহী মহানগরী জরাজীর্ণ জিয়া স্মৃতি জাদুঘর সংস্কারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ঘোষণার উদ্যোগ কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে মাঠে নামলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধটি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ বিশিষ্টজনদের সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা, পুশইন ও চামড়া পাচার রোধে ঈদের ছুটি বাতিল

জরাজীর্ণ জিয়া স্মৃতি জাদুঘর সংস্কারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ঘোষণার উদ্যোগ

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬
  • ২৬ বার দেখা হয়েছে

চট্টগ্রাম — জেলা প্রতিনিধি

মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রামের ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ সংস্কার ও সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটিকে জাতীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা (হেরিটেজ সাইট) হিসেবে ঘোষণা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছরের ২ ডিসেম্বর ভূমিকম্পের প্রভাবে ভবনের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নিরাপত্তার কারণে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। বর্তমানে বিশেষ বরাদ্দের অধীনে জাদুঘরটির জরুরি পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার কাজ চলছে।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি এলাকায় প্রায় ৩ দশমিক ১৭ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ১৯১৩ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্যাগোডা ধাঁচের স্থাপত্যশৈলী এবং স্থানীয় বহুস্তরবিশিষ্ট টিনশেড নকশার সংমিশ্রণে তৈরি এই ভবনটি এক সময় সার্কিট হাউস হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ভবনটিতে ক্যাম্প স্থাপন করে নির্যাতনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের ৩০ মে এই সার্কিট হাউসেই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। ১৯৮১ সালের ৩ জুন মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ভবনটিকে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৯৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’-এর উদ্বোধন করা হয়।

দীর্ঘদিন যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শতবর্ষী এই মূল ভবনটি বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার দেয়াল এবং ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কাঠের সিঁড়ি ও জানালাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জাদুঘরে সংরক্ষিত সাবেক রাষ্ট্রপতির সামরিক পোশাক, বিভিন্ন পদক, রক্তমাখা ম্যাট এবং মরদেহ বহনকারী স্ট্রেচারসহ বহু নিদর্শনে মরিচা ধরেছে ও বিবর্ণ হয়ে গেছে। এছাড়া ১৯৭১ সালে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে ব্যবহৃত ঐতিহাসিক ভারী যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন স্মারকও ঝুঁকিতে রয়েছে। ভবনটির দেওয়ালে ফাটল দেখা দেওয়ায় বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে এটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জাদুঘর প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে জাদুঘরের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে, যা আগামী জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ভবনের দেয়াল স্ক্র্যাপিং, রঙ করা, সীমানা প্রাচীর ও মূল কাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ, বাগানের আলোকসজ্জা এবং বিশ্রামাগার সংস্কারের কাজ চলছে।

জাদুঘরে শুধু জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচিহ্নই নয়, বরং মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বমোট ৮৭৬টি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের মাইক্রোফোন ও টেবিলের প্রতিরূপ, সাত বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর কমান্ডারদের ছবি, মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত পুরোনো মডেলের রাইফেল, ১৯৭১ সালে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে দেশের প্রথম মুক্তাঞ্চল স্মরণে ডাকঘর উদ্বোধনের প্রতিরূপ, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের দৃশ্য, জেড ফোর্সের লেটারপ্যাড ও খাম এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মনোগ্রাম। এছাড়া এখানে সংরক্ষিত রয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত নোট, ১৯ দফা কর্মসূচি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মূলনীতি সম্পর্কিত বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দলিল।

সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী জাদুঘরটি পরিদর্শন করে এর বর্তমান অবস্থা প্রত্যক্ষ করেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই স্মৃতি ও ইতিহাস সংরক্ষণ করতে ভবনটিকে হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে এর মূল কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার নিশ্চিত করা হবে।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাদুঘরটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে তিন ধাপের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে এটিকে হেরিটেজ সাইট ঘোষণা, দ্বিতীয় ধাপে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার এবং তৃতীয় ধাপে আংশিকভাবে দর্শনার্থীদের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। চলমান জরুরি মেরামত কাজ শেষ হওয়ার পর দর্শনার্থীদের আগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করে জাদুঘরের একটি অংশ দ্রুত চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026