সারাদেশ ডেস্ক
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় একটি কোরবানির পশুর হাটে বিক্রির জন্য আনা মহিষের অতর্কিত আক্রমণে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গত রবিবার উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের সানন্দবাড়ী হাটে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিনই হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন মারা যান এবং পরবর্তীতে সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দ্বিতীয় ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় হাটুরে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন—দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী এলাকার চর মাদার গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে মজিবুর রহমান এবং কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার জাউনিয়ার কড়াইডাঙ্গীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন। পশুর হাটে ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে উপজেলার সানন্দবাড়ী এলাকায় বিশাল কোরবানির পশুর হাট বসেছিল। গত রবিবার স্থানীয় আকন্দপাড়া গ্রামের এক খামারি বিক্রির উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি মহিষ নিয়ে ওই হাটে আসেন। কিন্তু হাটের ভেতর আনার পরপরই একটি মহিষ হঠাৎ অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং বিক্রেতার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে মহিষটি দড়ি ছিঁড়ে উন্মত্ত অবস্থায় পুরো হাটজুড়ে ছোটাছুটি শুরু করে এবং সামনে থাকা সাধারণ মানুষ ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের ওপর আক্রমণ চালাতে থাকে।
হঠাৎ মহিষের এই হিংস্র রূপ দেখে হাটে আসা শত শত মানুষ দিগ্বিদিক জ্ঞান হারিয়ে প্রাণভয়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। মহিষের শিংয়ের আঘাত এবং মানুষের হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়ে ঘটনাস্থলেই রুহুল আমিনসহ অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হন। উপস্থিত লোকজন আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে রাজিবপুর উপজেলার বাসিন্দা রুহুল আমিনের আঘাত অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই তিনি পথিমধ্যে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
অন্যদিকে, গুরুতর জখম হওয়া মজিবুর রহমানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সোমবার সন্ধ্যার দিকে মজিবুর রহমান মারা যান। এই নিয়ে মহিষের ওই একটিমাত্র আক্রমণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুজনে। ঘটনার সময় আহত হওয়া অন্য ব্যক্তিরা স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পশুর হাটে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে এই ঘটনার পর স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জনসাধারণের একাংশের মতে, কোরবানির হাটে মহিষ বা বড় আকৃতির গবাদিপশু ওঠানোর ক্ষেত্রে যে ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, তা পর্যাপ্ত ছিল না। উন্মত্ত পশুকে দ্রুত কাবু করার মতো দক্ষ লোকবল ও সরঞ্জামের অভাবও লক্ষ্য করা গেছে।
এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হাটে মহিষের আক্রমণে গুরুতর আহত মজিবুর রহমান জামালপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সন্ধ্যায় মারা গেছেন। এর আগে রবিবার রুহুল আমিন নামের আরও একজন নিহত হন। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুই জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ওসি আরও জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও আইনগত প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে পুলিশ পুরো ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পশুর হাটগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।