নিজস্ব প্রতিবেদক
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। উৎসবের এই সময়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের যাতায়াতের কারণে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে এবং পদ্মা সেতুতে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে রেকর্ডসংখ্যক যানবাহন পারাপার হয়েছে, যার বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকারও বেশি। গত ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবার এক দিনে যানবাহন পারাপার এবং টোল আদায়ের এই পরিমাণ লক্ষ্যণীয়ভাবে বেড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ।
পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুর মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ২৮ হাজার ৬৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এই প্রান্ত থেকে মোট টোল সংগৃহীত হয়েছে ২ কোটি ৬৪ লাখ ২১ হাজার টাকা। অন্যদিকে, শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্ত দিয়ে সেতু পার হয়েছে ১৫ হাজার ২৮৪টি যানবাহন। এই প্রান্ত থেকে আদায়কৃত টোলেন পরিমাণ ২ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫০ টাকা। সব মিলিয়ে গত এক দিনে উভয় প্রান্ত দিয়ে মোট ৪৩ হাজার ৩৫১টি যানবাহন চলাচল করেছে এবং সর্বমোট ৪ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা টোল আদায় সম্পন্ন হয়েছে। আর্থিক ও যানবাহন পারাপারের দিক থেকে এবারের দৈনিক আয় পদ্মা সেতুর ইতিহাসে এযাবৎকালের চতুর্থ সর্বোচ্চ রেকর্ড।
সেতু বিভাগের পূর্ববর্তী তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা সেতুতে সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড হয়েছিল ২০২৫ সালের ৬ জুন। সে বছর ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এক দিনে সর্বোচ্চ ৫২ হাজার ৪৮৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং ৫ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার ১০০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছিল। এছাড়া, একই বছরের ঈদুল ফিতরের সময় ১ দিনে ৪ কোটি Font৮৯ লাখ ৯৪ হাজার ৭০০ টাকা টোল আদায়ের মাধ্যমে দ্বিতীয় এবং ২০২৪ সালের ১৪ জুন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৩০ হাজার ১০০ টাকা আদায়ের মাধ্যমে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড তৈরি হয়েছিল। এবার সেই তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে যুক্ত হলো চলতি বছরের ঈদযাত্রার এই পরিসংখ্যান।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ জানান, ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সেতুর দুই প্রান্তেই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে মাওয়া প্রান্তে মূল ৭টি বুথ এবং মোটরসাইকেলের জন্য ৩টি বুথসহ মোট ১০টি বুথে টোল নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, জাজিরা প্রান্তে মূল ৭টি বুথ এবং ২টি মোটরসাইকেল বুথসহ মোট ৯টি বুথ চালু রাখা হয়েছে। উভয় প্রান্ত মিলিয়ে মোট ১৯টি বুথের মাধ্যমে সার্বক্ষণিকভাবে টোল আদায় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং মোটরসাইকেলের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে মাওয়া প্রান্তে বাড়তি অস্থায়ী বুথের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী আরও উল্লেখ করেন, দ্রুত যানবাহন পারাপারের লক্ষ্যে মাওয়া ও জাজিরা দুই প্রান্তেরই টোল প্লাজায় আধুনিক ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। এই প্রযুক্তির আওতায় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) কার্ড ব্যবহার করে যানবাহন থামানো ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল কেটে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ফলে চালকদের টোল প্লাজায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না, যা এক্সপ্রেসওয়ে ও সেতু এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ও গতিশীল রয়েছে।