অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের বাজারে সোনার দাম আরও এক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে। সবথেকে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (২৫ মে) সকাল ১০টা থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে এবং আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে এই নতুন দামেই সোনা কেনাবেচা চলছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মূল্য বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত দেশবাসীকে নিশ্চিত করেছে। সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) সরবরাহ কম থাকায় এবং এর মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সোনার এই নতুন দাম পুনঃনির্ধারণ করতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশের বাজারের সমন্বয় রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ব্যবসায়ী সংগঠনটি উল্লেখ করেছে।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে এখন থেকে প্রতিভরি ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। এছাড়া অন্যান্য মানের সোনার দামও আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন থেকে ২১ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনা বিক্রি হবে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকায়।
এর আগে গত শনিবার বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সোনার দাম ভরিপ্রতি ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়েছিল বাজুস। তবে সেই দাম হ্রাসের সুবিধা ক্রেতারা দীর্ঘমেয়াদে উপভোগ করতে পারেননি। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পূর্বের হ্রাসকৃত সমপরিমাণ অর্থই আবার ভরিপ্রতি বাড়িয়ে দেওয়া হলো। ফলে দেশের বাজারে মূল্যের এই ঘন ঘন ওঠানামা সাধারণ ক্রেতা ও অলংকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
বাজুস সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সোনার দাম মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের দর ওঠানামা এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে পাকা সোনার (তেজাবি সোনা) সরবরাহের ওপর সরাসরি নির্ভর করে। আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলে কিংবা ডলারের বিপরীতে টাকার মানে পরিবর্তন আসলে তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে সোনার বাজারে। এছাড়া ঈদ, বিয়ের মৌসুম কিংবা উৎসব-পার্বণের আগে অভ্যন্তরীণ বাজারে অলংকারের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। চাহিদার এই আকস্মিক বৃদ্ধির বিপরীতে যদি তেজাবি সোনার সরবরাহ অপর্যাপ্ত থাকে, তবে স্থানীয় বাজারে মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে সোনার দামের এই রেকর্ড বৃদ্ধি উৎসবের কেনাকাটায় একটি বড় প্রভাব ফেলবে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত ক্রেতারা যারা উৎসবের এই সময়ে স্বর্ণালংকার কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, তারা কিছুটা বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়বেন। একই সঙ্গে সোনার বাজার দর এভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ওঠানামা করলে সাধারণ জুয়েলারি ব্যবসায়ীরাও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বা মজুত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিতে বাধ্য হন, যা সার্বিক খুচরা ব্যবসা খাতে সাময়িক মন্দা ডেকে আনতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং স্থানীয় বাজারে সরবরাহ সংকট কেটে গেলে অদূর ভবিষ্যতে সোনার দাম আবার ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট বাজার বিশেষজ্ঞরা।