খেলাধূলা ডেস্ক
চলমান ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ম্যাচে বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে এক অনন্য বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন ভারতের তারকা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি। এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান ইংল্যান্ডের ওপেনার অ্যালেক্স হেলসকে পেছনে ফেলে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি অর্ধশতক বা তার বেশি রানের জুটির অংশ হওয়ার একক কীর্তি নিজের করে নিয়েছেন।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ছুড়ে দেওয়া ২৫৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে ইনিংসের সূচনা করেন বিরাট কোহলি। ১১ বলে ১৫ রানের একটি সংক্ষিপ্ত ইনিংস খেলে তিনি সাজঘরে ফিরলেও, উদ্বোধনী জুটিতে ভেঙ্কাটেশ আইয়ারের সঙ্গে ৬০ রান যোগ করেন। এই জুটিতে ভেঙ্কাটেশ আইয়ারের অবদান ছিল ৪৪ রান। তবে জুটির এই ৬০ রানের ওপর ভর করেই নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেন কোহলি।
এই অর্ধশত রানের জুটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ক্যারিয়ারে ২১১টি পঞ্চাশ বা তার বেশি রানের পার্টনারশিপের অংশ হলেন বিরাট কোহলি। এর আগে এই রেকর্ডের অংশীদার ছিলেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার অ্যালেক্স হেলস, যিনি ২১০টি পঞ্চাশোর্ধ জুটির অংশ হয়ে এতদিন তালিকার শীর্ষে ছিলেন। তালিকায় কোহলি ও হেলসের পরে যথাক্রমে অবস্থান করছেন অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার (২০০টি), পাকিস্তানের বাবর আজম (১৯৬টি) এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল (১৯১টি)।
বিরাট কোহলির রেকর্ডের রাতে অবশ্য তার দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু জয়ের দেখা পায়নি। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের দেওয়া ২৫৬ রানের বিশাল রানের পাহাড় তাড়া করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২০০ রানে থামে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ইনিংস। বড় ব্যবধানে ম্যাচটি হারলেও চলমান টুর্নামেন্টের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষ দুইয়ে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে বেঙ্গালুরু, যা তাদের প্লে-অফের লড়াইয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে জুটির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যেকোনো ব্যাটসম্যানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কোহলির এই নতুন রেকর্ড কেবল তার ব্যক্তিগত দক্ষতারই প্রমাণ দেয় না, বরং দলের পক্ষে যেকোনো উইকেটে টেকসই অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতা ও কার্যকারিতাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করে। বিশেষ করে আইপিএলের মতো উচ্চ প্রতিযোগিতাপূর্ণ ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ওপেনিং বা টপ অর্ডারে নেমে দলের ভিত শক্ত করতে কোহলির এই অবদান বেঙ্গালুরুর জন্য আগামী ম্যাচগুলোতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।