1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০২:১৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ছয় জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪, বহু আহত ছয় জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪, বহু আহত দীর্ঘ ৪৭ বছর পর ময়মনসিংহের ত্রিশালে ঐতিহাসিক দরিরামপুর ধরার খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন ১ কোটি ৮৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা প্রদান, পোর্টারদের বেতন বাবদ ২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাজউক কর্মকর্তাদের দলগতভাবে কাজ করার আহ্বান গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর ঈদুল আযহায় নির্বিঘ্ন যাতায়াতে বিআইডব্লিউটিএর বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস ঘোষণা পল্লবীর রামিসা হত্যা: ডিএনএ রিপোর্ট পেলে ঈদের আগেই চার্জশিটের : আইনমন্ত্রীর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ২ সহস্রাধিক চট্টগ্রামে তিন শিশুকে ধর্ষণ ও নির্যাতন: ক্ষোভ প্রকাশ মেয়রের, ডে-কেয়ার সেন্টার বাধ্যতামূলক করার আহ্বান ঈদুল আজহার ছুটির আগে বিশেষ কার্যদিবসের লেনদেনে চাঙ্গা দেশের শেয়ারবাজার

চট্টগ্রামে তিন শিশুকে ধর্ষণ ও নির্যাতন: ক্ষোভ প্রকাশ মেয়রের, ডে-কেয়ার সেন্টার বাধ্যতামূলক করার আহ্বান

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

চট্টগ্রাম — জেলা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম মহানগরীতে গত দুই দিনে তিন শিশুকে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এই ধরনের জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধে কর্মজীবী নারীদের সন্তানদের সুরক্ষায় চট্টগ্রামে একটি বড় কেন্দ্রীয় ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে (গার্মেন্টস) ডে-কেয়ার সেন্টার রাখা বাধ্যতামূলক করার জন্য সরকারের বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র।

শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী তিন শিশুকে দেখতে যান চসিক মেয়র। এ সময় তিনি শিশুদের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন। গত দুই দিনে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, বায়েজিদ ও খুলশী এলাকায় অন্তত তিনটি শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়। পুলিশ প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মেয়রের পরিদর্শনের পর এই নৃশংস ঘটনাগুলো নগরজুড়ে নতুন করে সুরক্ষার সংকট ও নৈতিক অবক্ষয়ের আলোচনা সামনে নিয়ে এসেছে।

হাসপাতাল পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, তিন-চার বছরের কোমলমতি শিশুদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে অপরাধীরা জঘন্য কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে, যা সমাজে তীব্র নৈতিক অবক্ষয়ের একটি বড় প্রমাণ। ছোট শিশুদের একা একা দোকানে বা বাইরে না পাঠানোর জন্য তিনি অভিভাবকদের প্রতি সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানান। চমেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) পরিসংখ্যান উল্লেখ করে মেয়র জানান, গত আট বছরে চট্টগ্রামে ১২ বছরের নিচে অন্তত ৪২২টি শিশু নির্যাতনের ঘটনার প্রাতিষ্ঠানিক রেকর্ড পাওয়া গেছে। সামাজিক অসন্তোষ ও লোকলজ্জার ভয়ে অনেকে আইনি আশ্রয় না নেওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা আরও উদ্বেগজনক হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

শিশু নির্যাতন ও সমাজবিরোধী এই অপরাধ রুখতে দেশের বিদ্যমান আইন সংশোধনের ওপর জোর দেন চসিক মেয়র। তিনি বলেন, আইন সংশোধন করে এই ধরনের অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, যেন ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের সাহস না পায়। দেশের অর্থনীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে নারী শ্রমিকদের অপরিহার্য অবদানের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, মায়েরা যখন কর্মক্ষেত্রে শ্রম দিচ্ছেন, তখন তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। গার্মেন্টস মালিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একটি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অত্যন্ত সহজসাধ্য বিষয়। বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতিমালায় প্রতিটি পোশাক কারখানার লাইসেন্স বা অনুমোদনের ক্ষেত্রে ডে-কেয়ার সেন্টার থাকার শর্ত বাধ্যতামূলক করা উচিত।

অতীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষাপট টেনে মেয়র বলেন, গত বছর হালিশহরে এক গার্মেন্টস কর্মীর সাড়ে তিন বছরের শিশু একা খেলতে গিয়ে ড্রেনে পড়ে মারা গিয়েছিল। কর্মজীবী মা-বাবার অনুপস্থিতিতে শিশুদের নিরাপত্তার অভাবই এই ধরনের ট্র্যাজেডির মূল কারণ। এই সংকট নিরসনে চসিকের পক্ষ থেকে নগরীর ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সহায়তায় একটি বড় কেন্দ্রীয় ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি, যেখানে সুবিধাবঞ্চিত ও কর্মজীবী মায়েদের শিশুদের নিরাপত্তা ও লালন-পালন সুনিশ্চিত করা হবে।

অন্যদিকে, চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থা সম্পর্কে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন জানিয়েছেন, তিনটি শিশুই বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত এবং স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। মেয়রের নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় বহন করছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিশুরা বয়সে অত্যন্ত ছোট হওয়ায় ঘটনার ভয়াবহতা পুরোপুরি বুঝতে পারছে না, তবে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার যেন এই মানসিক ট্রমা থেকে দ্রুত নিরাময় লাভ করতে পারে, সেজন্য বিশেষ কাউন্সিলিং ও নিবিড় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজ ও সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার কর্মীরা।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026