শেয়ার বাজার ডেস্ক
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির পূর্বে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশেষ কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। আজ শনিবার (২৩ মে) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে উভয় বাজারের সবকটি মূল্যসূচকের বড় উত্থানের পাশাপাশি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট লেনদেনের পরিমাণও পূর্ববর্তী কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটির আগে সাধারণত বাজারে এক ধরনের বিক্রয় চাপ দেখা যায়, তবে এবার ব্যতিক্রমী চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নতুন করে ক্রয়ের আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে লেনদেনের শুরু থেকেই বাজার ইতিবাচক রূপ ধারণ করে। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের তহবিল প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে সূচকের এই বড় উত্থান সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
আজ সকালে লেনদেন শুরুর প্রথম মিনিট থেকেই ডিএসইতে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়তে শুরু করে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রবণতা আরও শক্তিশালী হয়, যা লেনদেনের শেষ সময় পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। দিনশেষে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৩৯৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট হাতবদল হয়েছে। এর মধ্যে দর বৃদ্ধি পেয়েছে ২১৭টি প্রতিষ্ঠানের, হ্রাস পেয়েছে ১১৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে বাকি ৬০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মূল্য।
অধিকাংশ কোম্পানির দর বৃদ্ধির সুবাদে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ‘ডিএসইএক্স’ পূর্ববর্তী দিনের চেয়ে ৬৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৩২৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। প্রধান সূচকের পাশাপাশি অন্য দুটি সূচকেও বড় উত্থান দেখা গেছে। এর মধ্যে ডিএসইর শরিয়াহভিত্তিক সূচক ‘ডিএসইএস’ ৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৭ পয়েন্টে এবং বাছাইকৃত ৩০টি ব্লু-চিপ কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত ‘ডিএস-৩০’ সূচক ৩৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ৩০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সূচকের এই ধারাবাহিক উন্নতি বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফেরাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূচকের পাশাপাশি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আজ আর্থিক লেনদেনের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনশেষে ডিএসইতে মোট ৯০২ কোটি ১৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা হয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮৬৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। সেই হিসাবে আজ ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৩৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ঈদের ছুটির আগে বাজারে লেনদেন ৯০০ কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করাকে পুঁজিবাজারের জন্য একটি ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।
অন্যদিকে, দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধরনের চাঙ্গা ভাব বজায় ছিল। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ‘সিএএসপিআই’ আজ ১৬১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১৪ হাজার ৮৬১ পয়েন্টে স্থিত হয়েছে। দিনভর সিএসইতে মোট ১৯৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে মূল্য বেড়েছে ১০২টির, কমেছে ৬৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। তবে সিএসইতে আজ মোট ২৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ৩০ কোটি ৩৯ লাখ টাকার তুলনায় ৬ কোটি টাকা কম।
পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, ঈদের ছুটির ঠিক আগে সরকারি বিশেষ আদেশে শনিবার বাজার খোলা রাখার সিদ্ধান্তটি লেনদেনের গতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। সাধারণত ছুটির আগে বাজারে নগদ টাকার চাহিদা বাড়ায় বিক্রির চাপ থাকে, কিন্তু এবার সূচক ও লেনদেন বৃদ্ধির এই প্রবণতা নির্দেশ করে যে বিনিয়োগকারীরা বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। এই ধারা ঈদের ছুটি শেষে বাজার পুনরায় খোলার পরও বজায় থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল প্রত্যাশা করছে।