বিশেষ প্রতিবেদক
দীর্ঘ ৪৭ বছর পর ময়মনসিংহের ত্রিশালের ঐতিহাসিক দরিরামপুর ধরার খাল (যা স্থানীয়ভাবে বৈলর খাল নামে পরিচিত) পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) দুপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার কৃষিনির্ভর অর্থনীতি, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে উপস্থিত থেকে স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে এই খালটি খনন করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কোনো সংস্কার বা পুনঃখনন কাজ না হওয়ায় পলি জমে এবং অবৈধ দখলের কারণে খালটি প্রায় ভরাট হয়ে যায়। ফলে বর্ষা মৌসুমে এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটের সৃষ্টি হতো, যা স্থানীয় কৃষি উৎপাদনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল।
ঐতিহাসিক এই খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। আজ সকাল থেকেই ত্রিশালের দরিরামপুর এলাকার নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থলের চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে এই পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। আধুনিক খনন যন্ত্রের সাহায্যে খালের তলদেশের পলি অপসারণ করে এর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে, যেন বর্ষার অতিরিক্ত পানি সহজে নিষ্কাশিত হতে পারে। একই সাথে খালের দুই পাড় টেকসইভাবে সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে ভাঙন রোধে ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খালটি পুনঃখননের ফলে ত্রিশাল উপজেলার একটি বড় অংশের কৃষিজমিতে সেচ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আসবে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমিয়ে নদীর পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা স্থানীয় বোরো ও আমন চাষে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি, মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
উদ্বোধনী কর্মসূচি সম্পন্ন করার পর প্রধানমন্ত্রী ত্রিশালের নজরুল একাডেমি ডাকবাংলোতে অবস্থান গ্রহণ করেন। সূচি অনুযায়ী, সেখানে সাময়িক বিশ্রাম শেষে আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তাঁর। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে সমগ্র ত্রিশাল এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।