নিজস্ব প্রতিবেদক
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঘরমুখী যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে এবং নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। আগামী ২৪ মে থেকে এই বিশেষ সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকার বছিলা ব্রিজ সংলগ্ন লঞ্চঘাট এবং ঘোড়াশাল নদীবন্দরের অধীন শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকে বিভিন্ন নৌপথে এসব নৌযান চলাচল করবে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা নদীবন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন বছিলা ঘাট থেকে মোট ৬টি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ১২টি লঞ্চ যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত থাকবে। এর মধ্যে বেশ কিছু লঞ্চ ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ট্রিপ হিসেবে এবং বাকিগুলো বছরজুড়ে নিয়মিত রুট হিসেবে পরিচালিত হবে। উৎসবের সময়ে সদরঘাটসহ মূল টার্মিনালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে এবং ঢাকার পশ্চিমাঞ্চল ও এর আশপাশের বাসিন্দাদের সহজে নদীপথে যাতায়াতের সুযোগ করে দিতেই বছিলা ও শিমুলিয়া ঘাটকে কেন্দ্র করে এই বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, বছিলা লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে বছিলা-সদরঘাট-হাকিমুদ্দিন রুটে ‘এমডি টিপু’ ও ‘এমডি টিপু-৬’ লঞ্চ দুটি যাতায়াত করবে, যা বছরজুড়ে নিয়মিত থাকবে। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে বছিলা-সদরঘাট-চাঁদপুর রুটে যাত্রী পরিবহন করবে ‘এমডি ইমাম হাসান-২’ ও ‘এমডি ইমাম হাসান-৫’। এছাড়া, আগামী ২৪ মে থেকে ২৭ মে পর্যন্ত ঈদ স্পেশাল সার্ভিস হিসেবে সকাল ১১টায় বছিলা-সদরঘাট-শৌলা-মুধারহাট-মুলাদী রুটে ‘এমডি জামাল-১’ এবং দুপুর ১২টায় বছিলা-সদরঘাট-গলাচিপা রুটে ‘এমডি শরীয়তপুর-৩’ ও ‘এমডি মিতালী-৫’ চলাচল করবে।
বিকাল ও সন্ধ্যার শিফটেও বিশেষ যাতায়াতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে বছিলা-সদরঘাট-চাঁদপুর রুটে ‘এমডি সোনারতরী-৪’ এবং বিকেল ৪টায় বছিলা-সদরঘাট-বরিশাল ভায়া চাঁদপুর-নন্দিবাজার রুটে নিয়মিতভাবে ‘এমডি তরঙ্গ-১’, ‘এমডি মর্নিংসান-৫’ ও ‘এমডি আচল-৬’ লঞ্চগুলো উপকূলীয় অঞ্চলের যাত্রী নিয়ে রওনা হবে। এছাড়া সন্ধ্যা ৬টায় বছিলা-সদরঘাট-ইলিশা রুটে ‘এমডি ইয়াদ-১’ নামের আরেকটি লঞ্চ যাত্রী সেবা প্রদান করবে।
বছিলার পাশাপাশি মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকেও ঈদ যাত্রীদের জন্য বিশেষ লঞ্চ ও ফেরি সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৭টায় শিমুলিয়া-চাঁদপুর ঈদগাহ ফেরীঘাট রুটে ‘এমডি নাড়িয়া-৭’ নামক লঞ্চটি চলাচল করবে। একই সঙ্গে পদ্মা নদী পারাপার ও দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের সুবিধার্থে সকাল ৮টায় শিমুলিয়া-হরিণা ফেরীঘাট-ইলিশা রুটে ‘কার্নিভাল-১’ এবং ‘কার্নিভাল ওয়েভ’ নামের দুটি ফেরি নিয়মিত যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করবে।
নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রতি বছর ঈদের সময় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যে তীব্র জনস্রোত ও যানজটের সৃষ্টি হয়, বছিলা ও শিমুলিয়া থেকে এই বিশেষ সার্ভিস চালুর ফলে সেই চাপ অনেকাংশে হ্রাস পাবে। বিশেষ করে ঢাকার মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মিরপুর ও সাভার এলাকার যাত্রীরা সদরঘাটের যানজট এড়িয়ে সহজেই বছিলা থেকে দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াত করতে পারবেন। বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, এই বিশেষ নৌ-সার্ভিসগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই রোধ এবং ফিটনেসবিহীন নৌযানের চলাচল বন্ধে সার্বক্ষণিক তদারকি ও কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে।