আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতে বেকার তরুণদের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে ব্যঙ্গাত্মকভাবে গড়ে ওঠা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আন্দোলনের প্রভাব এবার প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানেও ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতের এই আন্দোলনের অনুপ্রেরণায় পাকিস্তানে পৃথক তিনটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। দলগুলো হলো— ‘তেলাপোকা আওয়ামী লীগ’, ‘তেলাপোকা আওয়ামী পার্টি’ এবং ‘মুত্তিহিদা তেলাপোকা মুভমেন্ট’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর দেশটির নেট দুনিয়ায় এটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (২২ মে) পাকিস্তানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নতুন দলগুলোর পেইজ ও অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে অনুসারীর সংখ্যা দ্রুত গতিতে বাড়ছে। দলগুলোর মধ্যে ‘তেলাপোকা আওয়ামী লীগ’ তাদের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতিতে এটিকে ‘তরুণদের একটি রাজনৈতিক ফ্রন্ট এবং তরুণদের দ্বারা পরিচালিত পাকিস্তানের একটি দল’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। পাকিস্তানের এই নতুন দলগুলোর লোগো ও প্রচারণায় ভারতের মূল দল ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র প্রতীকের সঙ্গে স্পষ্ট সাদৃশ্য দেখা গেছে। মূলত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে তরুণ সমাজের রাজনৈতিক সচেতনতা ও ক্ষোভ প্রকাশের হাতিয়ার হিসেবে এই আন্দোলনটি সীমান্ত অতিক্রম করেছে।
এই রাজনৈতিক আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটেছিল ভারতে সুপ্রিম কোর্টের একটি শুনানির প্রেক্ষাপটে। ভারতের প্রধান বিচারপতি দেশটির বেকার তরুণদের একাংশকে উদ্দেশ্য করে একটি শুনানিতে ‘তেলাপোকা ও পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। শীর্ষ আদালতের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ভারতের ৩০ বছর বয়সী তরুণ অভিজিত দিপকে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ বা সিজেপি নামে এই ব্যতিক্রমী দলটির ঘোষণা দেন।
ভারতে আত্মপ্রকাশের পর পরই এই আন্দোলনটি দেশটির যুবসমাজের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। দলটির অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে অনুসারীর সংখ্যা বর্তমান ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টে থাকা অনুসারীর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে দলটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে অনুসারীর সংখ্যা প্রায় দুই কোটি, যা আধুনিক রাজনৈতিক প্রচারণায় এক নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বেকারত্ব, অর্থনৈতিক সংকট এবং তরুণদের প্রতি নীতিনির্ধারকদের উদাসীনতার বিরুদ্ধে এটি একটি ভিন্নধর্মী ডিজিটাল প্রতিবাদ। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে তরুণ প্রজন্ম যেভাবে নিজেদের ক্ষোভ ও দাবি প্রকাশ করছে, তা ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। পাকিস্তান ও ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিপুল সংখ্যক কর্মহীন যুবসমাজ যখন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারাচ্ছে, তখন এ ধরণের ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন খুব সহজেই তরুণদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই ভার্চুয়াল আন্দোলনটি যদি শেষ পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের সংগঠনে রূপ নেয়, তবে তা দক্ষিণ এশিয়ার মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।