আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স বা জাতীয় গোয়েন্দা প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তুলসি গ্যাবার্ড। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পদত্যাগপত্র প্রকাশ করে তিনি এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। পারিবারিক কারণ, বিশেষ করে স্বামীর গুরুতর অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি চতুর্থ কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগের ঘটনা।
প্রকাশিত পদত্যাগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, তুলসি গ্যাবার্ডের স্বামীর শরীরে ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে পারিবারিক দায়িত্ব পালন এবং সার্বক্ষণিকভাবে স্বামীর পাশে থাকার উদ্দেশ্যে তিনি আগামী ৩০ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তার এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পর বর্তমান প্রধান ডেপুটি অ্যারন লুকাসকে ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সাবেক ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য তুলসি গ্যাবার্ড পরবর্তীতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী এবং তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল পদ তথা দেশের ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার মূল সমন্বয়ক হিসেবে ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স পদে নিয়োগ দেন। গোয়েন্দা কার্যক্রমে পূর্বের প্রথাগত অভিজ্ঞতার বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক মহলের বাইরে থেকে তার এই নিয়োগ তখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
তবে মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক কারণ ছাড়াও এই পদত্যাগের নেপথ্যে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ নীতিগত কিছু মতপার্থক্য ভূমিকা রেখে থাকতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক হামলার সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প প্রশাসনের সার্বিক নীতি এবং গোয়েন্দা তথ্যের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে প্রশাসনের অভ্যন্তরে এক ধরনের টানাপোড়েন চলছিল। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সংগৃহীত তথ্যের বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গ্যাবার্ডের সাথে শীর্ষ মহলের কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মন্ত্রিসভা ও প্রশাসন গঠনের পর একের পর এক শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগ বা বিদায় নেওয়া মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এর আগে আরও তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তা বিভিন্ন কারণে দায়িত্ব ছেড়েছেন, যার ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হলেন গ্যাবার্ড। জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের মতো একটি স্পর্শকাতর বিভাগের প্রধানের এই আকস্মিক বিদায় হোয়াইট হাউসের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে সাময়িক শূন্যতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নব্য নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দা প্রধান অ্যারন লুকাস তুলসি গ্যাবার্ডের স্থলাভিষিক্ত হয়ে আগামী ১ জুলাই থেকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। মার্কিন সিনেটের পরবর্তী নির্দেশনা বা স্থায়ী কোনো কর্মকর্তা নিয়োগের পূর্ব পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা বজায় থাকবে বলে হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে।